হাঁটুর অস্টিওআরথ্রাইটিসের লক্ষণ কী?
সাধারণত প্রবীণ বয়সে হাঁটুতে অনেক সময় অস্টিওআরথ্রাইটিস হয়। এ বিষয়টি নিয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৪৫২তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. মো. জাভেদ রশীদ। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগে পরামর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন।
প্রশ্ন : অস্টিওআরথ্রাইটিসের লক্ষণ কী?
উত্তর : অস্টিওআরথ্রাইটিসের অনেকগুলো লক্ষণ আছে। প্রধান লক্ষণ হলো রোগী ব্যথার অভিযোগ করেন। এই ব্যথাটা কাজ করার পরে আসে। বিশ্রাম নিলে সাধারণত ব্যথা একটু কমে আসে। কিন্তু বিশ্রামের পর যখন উনি আবার হাঁটু নাড়াচাড়া করতে যান, তখন জড়তা অনুভব করেন। এই ব্যথা আবার সব সময় একই ধরনের থাকে না। তীব্রতা কিছুদিনের জন্য থাকে, এরপর কমে আসে। আবার এটি ফেরত আসে। এইভাবে অস্টিওআরথ্রাইটিসের ব্যথাটা হয়। এ ছাড়া কারো কারো হাঁটুর ব্যথার তীব্রতা হলে হাঁটু ফুলে যায়। হাঁটুতে একটু গরম অনুভূত হতে পারে। পুরোনো হয়ে গেলে, হাঁটুতে ডিফরমেটি আসে।
প্রশ্ন : ডিফরমেটি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : হাঁটু ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যায়, হাঁটু স্বাভাবিক থেকে একটু বেঁকে গেছে। সাধারণত একজন চিকিৎসক আরা যাঁরা তাকে দীর্ঘদিন ধরে খেয়াল করেন তাঁরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারবেন।
প্রশ্ন : আপনাদের কাছে এলে কীভাবে রোগ নির্ণয় করেন?
উত্তর : আমরা সাধারণত রোগীর ইতিহাস নেওয়ার চেষ্টা করি। তার আগে একটু বলি, রোগীরা যখন আমাদের চেম্বারে দরজা দিয়ে ঢোকেন, ওনাদের একটু ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলে আমরা ধরতে পারি, উনি অস্টিওআরথ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগছেন। তারপর রোগীর ইতিহাসটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাস আমাদের অনেক সময় ধারণা দেয়, অস্টিওআরথ্রাইটিস আছে কি না। এরপর আমরা রোগীকে পরীক্ষা করি। কখনো কখনো কিছু আনুষঙ্গিক পরীক্ষা আমাদের অনুমানকে প্রমাণিত করে।
প্রশ্ন : আনুষঙ্গিক পরীক্ষা বলতে কী কী করতে হবে?
উত্তর : রোগনির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা সাধারণত হাঁটুর এক্সরে করে থাকি। নি সিরিজ এক্সরে করলেই ধরা যায় যে হাঁটুর অস্টিওআরথ্রাইটিস আছে কি না। দাঁড়ানো অবস্থায়, ভারবাহী অবস্থায় হাঁটুর সামনে থেকে একটি এক্সরে করা হয়। এ ছাড়া অনেক সময় স্কাইলাইন ভিউ করে থাকি।

ফিচার ডেস্ক