কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ কী?
কিডনিতে পাথর বিভিন্ন কারণে হয়। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাস্থ্য প্রতিদিন’ অনুষ্ঠানের ২৪৫৩তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক জামানুল ইসলাম ভূঁইয়া। বর্তমানে তিনি গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন : একজন রোগীর যদি কিডনি, মূত্রনালি বা মূত্রথলি কোথাও পাথর হয় আর সেটা আটকে যায়, সে ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে?
উত্তর : পাথর হলে সেটি কোন জায়গায় আছে, এর ওপর নির্ভর করবে উপসর্গটা কী হয়। মনে করেন, কিডনিতে পাথর আছে। কিডনিতে পাথর হলে তার পিঠের দিকে ব্যথা করতে পারে। অথবা সামনের দিকেও করতে পারে।
প্রশ্ন : ব্যথাটা কোন এলাকায় হতে পারে?
উত্তর : বেশির ভাগই রিপ, যেগুলো আছে বা আমরা যাকে সাটনি বলি, আর পৃষ্ঠদেশের হাড় যেটা আছে, এর মাঝখানে অংশটাতে ব্যথা হয়। শুধু তা-ই নয়, তার সঙ্গে জ্বর আসতে পারে। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হতে পারে। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। এগুলো মূত্রনালি বা মূত্রথলিতে হোক, সবখানেই অন্যান্য উপসর্গ এক। শুধু ব্যথাটা কিডনির বেলায়, যেমন যে জায়গার কথা বললাম, সেখানটায় হবে। কিন্তু মূত্রনালির ক্ষেত্রে একটু নিচের দিকে হবে, ঊরুর দিকটায়। মূত্রথলিতে যদি পাথর থাকে, তাহলে তলপেটে ব্যথা করবে। রেডিয়েশন হবে পুরুষাঙ্গের দিকে অথবা নারী হলে নারীদের যৌনাঙ্গের দিকে।
প্রশ্ন : ব্যথা নিয়ে রোগী এলে রোগনির্ণয়ের জন্য আপনারা কী করে থাকেন?
উত্তর : আসলে প্রথমে আমরা একটি প্রস্রাবের সহজ পরীক্ষা করি। প্রস্রাবে কিছু আছে কি না। রক্তকণা আছে কি না। এর পর সবচেয়ে সহজ একটি পরীক্ষা করি। এতে শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে। সেটি হলো একটি সাধারণ এক্স-রে। যদি একটি এক্স-রে করি, সাধারণ এক্স-রে, তাহলে দেখা যায় যে একটা পাথর হয়ে আছে। সারা দেশে এটা করা যায়। তবে শতকরা ১০ ভাগ ক্ষেত্রে আমরা এটা ধরতে পারি না, যেটা এক্স-রেতে আসে না। এর জন্য আমরা আলট্রাসনোগ্রাম করতে পারি। এটা তেমন ব্যয়বহুলও না। এরপরও যদি আমাদের আরো দু-একটা কিছু লাগে, সে ক্ষেত্রে আমরা সিটিস্ক্যানে যেতে পারি। এসব পরীক্ষা দিয়ে শতকরা ৯৯ ভাগ রোগনির্ণয় করে ফেলা সম্ভব।

ফিচার ডেস্ক