কাঁধের গাঁট জখম হলে কী সমস্যা হয়?
বিভিন্ন কারণে কাঁধের গাঁট জখম হয়।এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৪৬৮তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. জি এম জাহ্ঙ্গীর হোসেন। বর্তমানে তিনি বর্ডার গার্ড হাসপাতালের আর্থোস্কোপটিক বিভাগের পরামর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন।
প্রশ্ন : একজন মানুষের কাঁধে জখম হলে হাতের কাজে কী কী ব্যাঘাত ঘটবে?
উত্তর : রোগীরা প্রায়ই আমাদের কাছে এসে বলে ডাক্তার সাহেব আমি প্যান্টের পেছনে হাত দিতে পারি না। এই কাঁধে ঘুমাতে পারি না। এ ধরনের বিষয় হলে আমরা বুঝতে পারি যে তার কয়েক ধরনের সমস্যা হয়েছে। হয় জয়েন্টের ভেতর তার যেকোনো ধরনের প্রদাহ হতে পারে। জয়েন্টের ভেতর তার হাড় বের হয়ে যেতে পারে। অথবা ফ্রোজেন সোল্ডার হতে পারে।
প্রশ্ন :সেক্ষেত্রে করণীয় কী?
উত্তর :আমরা যদি দেখি আঘাতের কারণে সে হাত তুলতে পারে না,সে পিঠ চুলকাতে পারে না,মাথায় চিরুনি করতে পারে না,তখন আমরা প্রথমে তাকে শারীরিকভাবে কিছু পরীক্ষা করি। তারপর কিছু এক্স-রে বা এমআরইয়ের সাহায্য নিয়ে, আমরা দেখি যে তার পেশি ছিঁড়ে গেছে কি না অথবা লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে কি না। অথবা হাড়ের কোনো ফ্রাকচার হয়েছে কি না, যেটা তার নড়াচড়ায় অসুবিধা করে। যদি আমরা দেখি তার পেশি ছিঁড়ে গেছে,সেই ক্ষেত্রে পেশি ছিঁড়ে গেলে আমাদের কাছে রোগী যদি তাড়াতাড়ি আসে,আমরা তাকে অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে আর্থোস্কোপির সাহায্যে পেশিকে ঠিক করে দেই,ছোটো দুই ছিদ্রের মাধ্যমে। তাহলে তিন থেকে চার সপ্তাহ পর,আশা করছি তার হাতের নড়াচড়া স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
আবার রোগীরা আসে জখমের কারণে বা জন্মগত সমস্যার কারণে বারবার জোড়া ছুটে যায়। বলে,ডাক্তার সাহেব আমার হাত তুলতে গেলে, কিছু একটা ছুঁড়তে গেলে জোড়া ছুটে যায় আবার আটকে যায়। এ ক্ষেত্রে আমরা বলি ভেতরে তার লিব্রাম,লিগামেন্ট ইত্যাদি আহত হয়েছে। সেই ক্ষেত্রেও আর্থোস্কোপি যন্ত্রের সাহায্যে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে আমি যদি লিগামেন্ট,ক্যাপশুল ঠিক করে দেই,আশা করি সে ঠিক হয়ে যাবে।

ফিচার ডেস্ক