মাদারীপুরে হামের প্রকোপ : এক শিশুর মৃত্যু
মানিকগঞ্জের পর এবার মাদারীপুর জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ১৫ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের সাড়ে তিন মাস বয়সী আদিবা নামে এক শিশুর মৃত্যুতে জেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১২ শয্যার একটি বিশেষ ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ চালু করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বুধবার বিকেল পর্যন্ত ১১ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই এক বছরের কম বয়সী। তাদের অনেকেই এখনও হামের টিকা পায়নি। এছাড়া রাজৈর উপজেলা হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুই শিশুকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিবচর হাসপাতালে এক শিশু ভর্তি আছে। সংক্রমণ রোধে হাসপাতালের পঞ্চম তলায় শিশু ওয়ার্ডের পাশে তিনটি পৃথক কক্ষে এই আইসোলেশন কর্নার তৈরি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হামের পাশাপাশি সাধারণ জ্বর, ঠান্ডা, সর্দি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ৪০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ১০৪ জন রোগী ভর্তি আছে, যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। শয্যা সংকটের কারণে এক বিছানায় দুই-তিনজন শিশুকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। এমনকি অনেককে হাসপাতালের মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসক ও নার্সরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
মাদারীপুর সদর উপজেলার চরমুগরিয়া এলাকার ৯ মাস বয়সী মুনতাহারা ও মহিষেরচর এলাকার ৬ মাস বয়সী জায়েদ হামে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন। জায়েদের দাদী তানজিলা বেগম জানান, ৯ মাস বয়স না হওয়ায় তার নাতিকে এখনও টিকা দেওয়া হয়নি। ফলে সে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবে চিকিৎসাধীন অন্যান্য শিশুদের অবস্থা বর্তমানে উন্নতির দিকে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ (কনসালটেন্ট) ডা. জহিরুল ইসলাম ফিরোজ জানান, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্তদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী শয্যা সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
ডা. জহিরুল ইসলাম ফিরোজ আশ্বস্ত করে বলেন, সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে হামে ভয়ের কিছু নেই। সারা দেশেই বর্তমানে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার ও লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এম. আর. মুর্তজা, মাদারীপুর