আইনে পরিণত হলো ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল
ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, ২০১৯-এ সম্মতি দিলেন দেশটির রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। ফলে এখন থেকে আইনে পরিণত হলো বিলটি। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি। এদিনই রাষ্ট্রীয় গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে আইনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়।
গত সোমবার লোকসভায় ও বুধবার রাজ্যসভায় ভোটাভুটিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করিয়ে নেয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জুটি। লোকসভায় ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের, ষষ্ঠ সংশোধনী বিল পেশ করে মোদি সরকার। সংসদীয় কমিটি ঘুরে চলতি বছরের গত জানুয়ারিতে লোকসভায় বিলটি পাস হয়। কিন্তু সে সময় সংখ্যার জোর না থাকায় রাজ্যসভায় বিলটি আর পেশ করেনি মোদি সরকার।
তার পর ফের সংসদে হাজির করা হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। গত ৪ ডিসেম্বর তাতে অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এর পর তুমুল বিতর্কের মধ্যেই প্রথমে লোকসভা এবং তার পর রাজ্যসভায়ও বিলটি পাস করাতে সক্ষম হয় ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। এই বিল পেশের পরেই হট্টগোল শুরু হয় দেশজুড়ে।
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে দেশের মুসলিমদের ভয়ের কোনো কারণ নেই বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বাস দিলেও ‘দেশকে পিছিয়ে দেবে এই বিল’ বলে তোপ দাগেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। বিলের বিরুদ্ধে চলে যায় শিবসেনা। সরকারের পাশে থাকে এআইএডিএমকে। তবে এই বিলকে ‘সাহসী পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয় আরএসএস। এদিকে আলোচনার মাঝে বিলের কপি ছিঁড়ে বিতর্কে শামিল হন ওয়াইসি।
আইন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আর ভারতের মাটিতে চিহ্নিত হবেন না। তাঁদের শরণার্থী হিসেবে দেখা হবে।
এবার থেকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান, পার্সি ও শিখরা ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

কলকাতা সংবাদদাতা