এবারের হজে কী কী বাড়তি ব্যবস্থা
নভেল করোনাভাইরাসজনিত মহামারির মধ্যে এক হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণে সীমিত আকারে শুরু হয়েছে পবিত্র হজ। আজ হজযাত্রীরা অবস্থান করছেন মিনার তাঁবুতে। সেখানে তাঁরা সালাত আদায় ও ইবাদত করছেন। আগামীকাল আরাফাতের ময়দানে হবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা এবং হজের খুতবা।
বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েত হজ। করোনাভাইরাসের কারণে একেবারেই ছোট পরিসরে এবারের হজ আয়োজিত হচ্ছে। সৌদি আরবের বাইরের কেউই মক্কায় আসতে পারছেন না এবার। অন্য দেশের যেসব নাগরিক ইতোমধ্যে সৌদি আরবে আছেন, শুধু তাঁরাই যোগ দিচ্ছেন এবার।
গেল বছরও পবিত্র হজে ২০ লাখের বেশি মানুষ যোগ দিয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে এবার সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে হজ পালন। মাত্র এক হাজার মুসল্লি যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের ৩০ ভাগ সৌদি আরবের নাগরিক। বাকিরা বিদেশি মেহমান। সবার বয়সসীমা ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।
কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হয়েছে এবারের পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। যাঁরা হজ করছেন, তাঁদের শরীরের তাপমাত্রা নেওয়া হয়েছে এবং করোনাভাইরাস টেস্টও করা হয়েছে। যাঁরা এবার হজের সুযোগ পেয়েছেন, তাঁদের হজের আগে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে এবং পরেও রাখা হবে।
আজ বুধবার ফজরের নামাজ শেষে কাবা শরিফ তাওয়াফ করে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিনার উদ্দেশে রওনা হন আল্লাহর মেহমানরা। মিনার তাঁবুতে হাজিদের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সময় কাটাতে হবে, আদায় করতে হবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজ শেষে তাঁরা যাবেন আরাফাতের ময়দানে। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগি করবেন। এ সময় মসজিদে নামিরাহ থেকে পাঠ করা হবে খুতবা, যা বাংলাসহ ১০টি ভাষায় অনূদিত হবে। এরপর হাজিরা যাবেন মুজদালিফায়।
আগামী শুক্রবার ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মিনায় ফিরবেন হাজিরা। জামারাতুল আকাবায় নিক্ষেপ করবেন সাতটি পাথর। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় করবেন পশু কোরবানি। সবশেষে মাথা ন্যাড়া এবং তাওয়াফে জিয়ারত করবেন হাজিরা।
প্রতি ৫০ মুসল্লির জন্য একজন ‘স্বাস্থ্য নেতা’
সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট জানিয়েছে, এবারের হজে অভূতপূর্ব এক পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। করোনা মহামারিজনিত পরিস্থিতিতে এবারের ব্যতিক্রমী হজে প্রতি ৫০ জন হজযাত্রীর জন্য একজন করে ‘স্বাস্থ্য নেতা’ নিয়োগ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই স্বাস্থ্য নেতা তাঁর দলের হজযাত্রীরা স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বিষয়গুলো যথাযথভাবে মানছেন কি না, তা নিশ্চিত করবেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া সতর্কতামূলক ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা-সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো হজযাত্রীরা অনুসরণ করছেন কি না, তা নিশ্চিত করবেন সংশ্লিষ্ট দলের নেতৃত্বে থাকা স্বাস্থ্য নেতা। সৌদি প্রেস এজেন্সি এক বিবৃতিতে গতকাল মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে। সতর্কতামূলক ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা-সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে হজযাত্রীদের নিরাপত্তা বিধানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং পবিত্র স্থানগুলোতে চলাফেরায় যাতে হজযাত্রীদের কোনো অসুবিধা না হয়, তার খেয়াল রাখা ইত্যাদি।
হজযাত্রীদের নেতৃত্ব থাকা এসব স্বাস্থ্য নেতা একেকজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তাঁরা হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বাসে থাকা অবস্থায়ই পূর্বসতর্কতামূলক একটি ফেম পূরণ করবেন এবং হজযাত্রীদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন। কোনো হজযাত্রীর শারীরিক অবস্থা সন্দেহজনক হলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সে বিষয়ে অবহিত করবেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক