করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০৪, আক্রান্ত সাড়ে ১৪ হাজার
চীনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৪ জনে। এ ছাড়া আজ রোববার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত সাড়ে ১৪ হাজার মানুষ। পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে লাখখানেক চীনা নাগরিককে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
এদিকে, প্রাণঘাতী এ ভাইরাস চীন ছাড়াও ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ২০টিরও বেশি দেশে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, চীন ভ্রমণকারী বিদেশিরা সেসব দেশে প্রবেশ করতে পারবেন না। অস্ট্রেলিয়া, জাপান, পাকিস্তান, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
এদিকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চিকিৎসা সরঞ্জামের অপ্রতুলতার কারণে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর সহায়তা চেয়েছেন। অন্যদিকে, চীনের মূল ভূখণ্ডে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিজেদের সব অফিশিয়াল শোরুম ও করপোরেট কার্যালয় বন্ধ করছে আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। শনিবার এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয় মার্কিন এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে, ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত চীনের হুবেই প্রদেশের উহান নগরীতে সবচেয়ে বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ উহান থেকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনছে। এ ছাড়া চীনের সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
এদিকে, শুরুতে এ ভাইরাস নিয়ে চীনের অভ্যন্তরে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হলেও এবার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস আধানম বলেন, ‘জরুরি অবস্থা ঘোষণার পেছনে মূল কারণ, অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে এ ভাইরাস, এটা আশঙ্কার। এ ঘোষণার মাধ্যমে দুর্বল স্বাস্থ্যসেবার দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে।’
এদিকে এ রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে চীনের ৩১ শহরের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আক্রান্তদের জন্য নতুন দুটি হাসপাতাল তৈরির কাজও শেষের পথে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে চীনের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী রাশিয়া। গত বৃহস্পতিবার রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দেয়। এ ছাড়া চীন ভ্রমণ না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মার্কিন নাগরিকদের।
এরই মধ্যে করোনাভাইরাসটি চিহ্নিত হওয়ার পর এর প্রতিষেধক বা টিকা উদ্ভাবনে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা, কাজ এগোচ্ছে দ্রুতগতিতে। এই গ্রীষ্মেই নতুন টিকা পরীক্ষা করে দেখার পরিকল্পনা জানিয়েছেন তাঁরা।

অনলাইন ডেস্ক