ডাকিনীবিদ্যা চর্চার অভিযোগে পাঁচ নারীকে হত্যা
ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে ডাকিনীবিদ্যা চর্চার অভিযোগ এনে পাঁচ নারীকে হত্যা করা হয়েছে। মানদার থানার অধীন মারাইতলী গ্রামে গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে এই ঘটনা ঘটেছে।
ডাকিনীবিদ্যা চর্চার নাম নিয়ে রাজ্যটিতে নারী হত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে। একটি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, গত এক দশকে ঝাড়খণ্ডে ডাকিনীবিদ্যা চর্চার দায়ে অন্তত এক হাজার নারীকে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, গত মধ্যরাতে ওই নারীরা তাদের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গ্রামের লোকজন তাদের ঘর ভেঙে প্রবেশ করে এবং সন্দেহভাজন ওই পাঁচ নারীকে ঘর থেকে বের করে এনে হত্যা করে। ওই নারীরা গ্রামের শিশুদের ওপর কালোজাদু চর্চা করছে বলে অভিযোগ করেন গ্রামবাসী।
রাঁচী পুলিশের মহাপরিদর্শক অরুণ কুমার সিং জানান, স্থানীয় জনতা ওই পাঁচ নারীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের হত্যা করে।
স্থানীয় এক ব্যক্তি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানান, গত ছয় মাসের মধ্যে গ্রামের চারটি শিশু মারা গেছে। এরা প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন বিভিন্ন রোগে ভুগে মারা যায়। গ্রামবাসী বিশ্বাস করে যে, এই পাঁচ নারী ডাকিনীবিদ্যার চর্চা করে এবং ওই শিশুদের ওপর তাদের কালোজাদু চর্চার কারণেই তারা মারা গেছে। তাই গ্রামের কল্যাণের স্বার্থে ওই পাঁচ নারীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
গ্রামটি মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় রাতে সেখানে কোনো পুলিশ প্রহরা ছিল না। এ কারণে ঘাতকরা নিরাপদে এসে ওই নারীদের হত্যা করার সুযোগ পায়। অন্তত ১০০ জন মানুষ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসে পাঁচ নারীকে হত্যা করে।
আজ শনিবার সকালে পুলিশ ওই গ্রামটিতে গিয়ে পাঁচটি লাশ উদ্ধার করে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেশ কয়েকজন স্থানীয়কে আটক করেছে পুলিশ।
তবে গ্রামবাসী পুলিশকে আসতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় বেশ উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক