গরিব স্কুলছাত্রীদের সোনার দুল কিনে দিলেন ভিখারি
ভারতের গুজরাট রাজ্যের মেহসানা জেলা। সেখানে স্থানীয় একটি মন্দিরের সামনে রোজ সকালে হুইলচেয়ারে বসে ভিক্ষা করেন থিমজিভাই প্রজাপতি নামের এক ভিক্ষুক। একাই জীবন কাটান। ভিক্ষা করা অর্থ দিয়ে তিনি স্থানীয় এক স্কুলের ছাত্রীদের সোনার তৈরি কানের দুল কিনে দিয়েছেন।
থিমজিভাই প্রজাপতি মেহসানার মাগপাড়া স্কুলের ১০ ছাত্রীকে সোনার কানের দুল উপহার দিয়েছেন।
মাগপাড়া স্কুল সূত্রে জানা গেছে, ওই ভিক্ষুক তাঁর উপার্জিত অর্থ দিয়ে স্কুলের অতিদরিদ্র ১০ ছাত্রীর হাতে তুলে দেন সোনার কানের দুল। এই ছাত্রীদের বেশির ভাগের বাস বস্তিতে। পারিবারিক অবস্থাও মোটেই সচ্ছল নয় তাদের।
নারীদের জন্য থিমজিভাই প্রজাপতির দান এটাই প্রথম নয়। তিন বছর ধরে স্কুলের ছাত্রীদের অনেক কিছুই দান করেছেন। কখনো বই-খাতা, কখনো পোশাক-আশাক, স্কুলের ইউনিফর্ম। এ ছাড়া গত ১৩ বছর তাঁর ভিক্ষা করা অর্থ (আনুমানিক ৮০ হাজার রুপি) থিমজিভাই দান করেছেন সমাজের নানা নারীকল্যাণমূলক কাজে।
থিমজিভাই প্রজাপতি বলেন, ‘আমি মনে করি, লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়ানো মেয়েদের একান্ত দরকার। সে কারণে দরিদ্র ছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে যাতে অসুবিধা না হয়, সে কথা মাথায় রেখেই আমার ভিক্ষা করা অর্থ দিয়ে সামান্য সাহায্যের চেষ্টা করে যাই মাত্র।’
শুধু অর্থ দিয়ে সাহায্যই নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও নারী তথা মেয়েদের মর্যাদা বৃদ্ধির লড়াইতেও শামিল প্রজাপতি।
উল্লেখ্য, গুজরাটের মেহসানায় শিশুপুত্রদের তুলনায় শিশুকন্যার সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। তাই থিমজিভাই স্থানীয় অভিভাবকদের উৎসাহিত করেন, কন্যাসন্তান অবহেলিত যাতে না হয়।
তবে এবারে ছাত্রীদের জন্য কানের দুল কেনার ক্ষেত্রে স্থানীয় স্বর্ণকার দিলীপ শাহও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘উনি স্কুলের গরিব ছাত্রীদের সোনার কানের দুল দান করবেন জানতে পেরে আমি যথাসাধ্য কম দাম নেওয়ার চেষ্টা করেছি। ১০ জোড়া সোনার কানের দুল ১৩ হাজার রুপির বদলে ১০ হাজার রুপি নিয়েছি।’

কলকাতা সংবাদদাতা