ভারতীয় গুরুরা কেন নুডলস বেচেন?
ভারতের জনপ্রিয় গুরু বাবা রামদেব। দেশটির দ্রুত বর্ধনশীল ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পাতানঞ্জলির কর্ণধারও তিনি। নুডলসসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য বাজারজাত করে এই প্রতিষ্ঠান। ফোর্বসের দৃষ্টিতে এটি স্বাস্থ্যকর খাবার ও পণ্যের ভারতীয় ব্র্যান্ড।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গেরুয়া পোশাকে বিশাল দাঁড়িওয়ালা রামদেব শুধু নুডলসই বেচেন না। তাঁর বাজারজাতকৃত পণ্যের মধ্যে আছে মধু, স্বাস্থ্যকর পানীয়, ফলের রস, মিষ্টি, কুকি, মসলা, চা, ময়দা, আচার, সাবান, ব্যথানাশক বাম, শ্যাম্পু।
ভারতে প্রত্যেক নামকরা গুরুরই লাখ লাখ অনুসারী আছে, যাঁরা ওই গুরুরই পণ্য কেনেন। এ ছাড়া অনুসারীর বাইরে ভারতের বিশাল বাজার তো আছেই।
নৃবিজ্ঞানী লিসা ম্যাকেইন হিন্দুধর্মের অর্থনৈতিক অংশটুকু তুলে ধরেছেন তাঁর ‘ডিভাইন এন্টারপ্রাইজ’ বইয়ে। তিনি বলেন, গত শতাব্দীর ৮০ ও ৯০-এর দশকে ভারতীয় গুরু ও তাঁদের প্রতিষ্ঠান দেশ ও দেশের বাইরে বহুজাতিক পুঁজিবাদ শুরু করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের গুরুদের আয়ের পন্থা পরিবর্তন হয়েছে। আগে ভারতের গুরুরা যোগব্যায়াম ও এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন পণ্য বিদেশিদের কাছে বিক্রি করে বিপুল অর্থ অর্জন করতেন। বর্তমানে তাঁদের আয়ের উৎস হয়েছে অনুসারীদের মধ্যে ভোগ্যপণ্য বিক্রি। আর বিপুল অর্থের পাশাপাশি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেশ শক্তিশালীও হয়ে উঠেছেন এসব গুরু।

জানা গেছে, রামদেবের পাতানঞ্জলি নুডলস ভালোই চলছে ভারতের বাজারে। নেসলের জনপ্রিয় নুডলস ম্যাগির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী পাতানঞ্জলি। আর পাতানঞ্জলির সফলতায় আরেক ভারতীয় গুরু রাম রহিম সিং নিজস্ব খাবারের ব্র্যান্ড চালু করেছেন।
স্টেজে নানা কসরত, সিনেমা ও মোটরসাইকেল চালানোর জন্য পরিচিত গুরু রাম রহিম সিং আচার, মধু, বোতলজাত পানির সঙ্গে সঙ্গে নুডলসও বিক্রি করছেন। এই গুরু চান, কীটনাশকমুক্ত খাবার খেয়ে ভারতীয়রা স্বাস্থ্যবান হোক। নিজের ওয়েবসাইটে ১১৭ রকম সেবামূলক কাজের ফিরিস্তি দেন এই গুরু, যাঁর মধ্যে আছে আন্তর্জাতিক ব্লাড ব্যাংক, সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ দূরীকরণ, পাখিদের খাবার দেওয়া ইত্যাদি।
দক্ষিণ ভারতের আরেক গুরু শ্রীশ্রী রবিশঙ্কর আয়ুর্বেদিক পণ্য বিক্রি করেন, যার মধ্যে আছে টুথপেস্ট, প্রোটিন শ্যাম্পু, ভেষজ চা, ডায়াবেটিকস প্রতিরোধী ট্যাবলেট, ব্যথানাশক বাম, সিরাপ। আর এর সবই তৈরি হয় বেঙ্গালুরুর এক অত্যাধুনিক ফ্যাক্টরিতে। ভারতের এমন গুরুর সংখ্যা বলে শেষ করা যাবে না, যাঁরা বিভিন্নভাবে ভোগ্যপণ্য বা খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ করেন।

অনলাইন ডেস্ক