বিয়ের ভোজে গেলে তার খরচ পড়বে প্রার্থীর ঘাড়ে!
পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের ভোজের অনুষ্ঠানে খেতে যাওয়া একরকম নিষেধ হতে চলেছে! কারণ, নির্বাচনী বিধির নিয়মে পড়ে এবারে ভোজ খেতে গেলে প্রার্থীকে ওই ভোজের পুরো খরচ বহন করতে হবে।
জানা গেছে, ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বড় বড় ভোজবাড়ির অনুষ্ঠানের ওপর নির্বাচনী ব্যয় পরিদর্শকদের কড়া নজরদারি থাকছে। তাই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের প্রার্থীদের নিজের এলাকার বিয়েবাড়ি, জন্মদিনের অনুষ্ঠান, শ্রাদ্ধানুষ্ঠান, অন্নপ্রাশন কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যেতে গেলে অন্তত দশবার ভাবতে হচ্ছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোজের অনুষ্ঠানে অর্থসাহায্য করে প্রচার চালাতে পারেন প্রার্থীরা। তা ছাড়া ভোজবাড়িতে প্রার্থীরা গেলে সেখানে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ থাকে এবং প্রার্থীরা অনায়াসেই প্রচারণা চালাতে পারেন। তাই এ জাতীয় ভোজবাড়ির অনুষ্ঠানে যেতে গেলে ভোটের মুখে প্রার্থীদের গাটের কড়ি খসিয়েই যেতে হবে। মূলত, প্রার্থীদের খরচের ক্ষেত্রে নজরদারি চালানোর লক্ষ্যে ভারতের নির্বাচন কমিশনের তরফে এমন আচরণবিধি জারি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে এবার ভোটে প্রার্থীরা কোনো তারকা প্রচারকদের নিয়ে সফর করলেও সে বাবদ যাবতীয় খরচ যুক্ত হবে প্রার্থীর খরচের খাতায়। এমনকি তারকা প্রচারকদের সঙ্গে নির্বাচনী জনসভা ছাড়া অন্য কোনো সভাতে প্রার্থীদের দেখা হলেও এর অর্ধেক খরচ প্রার্থীকে বহন করতে হবে।
জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের অভিনব নির্বাচনী বিধি কার্যকর হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন কমিশনের ব্যয় পরিদর্শকরা। পশ্চিমবঙ্গে আগামী ৪ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য ব্যয় পরিদর্শকরা এরই মধ্যে রাজ্য পৌঁছে গেছেন।
পশ্চিমবঙ্গে প্রার্থীদের প্রচারের ক্ষেত্রে মোট আটটি টিম তৈরি করে প্রার্থীদের প্রচারের খরচে নজরদারি চালাবে নির্বাচন কমিশন। এই ব্যয় পরিদর্শক টিমের সাহায্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রার্থীদের প্রতিদিনের যাবতীয় খরচের হিসাব রাখা হবে। এ ছাড়া এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আয়কর দপ্তরকেও প্রার্থীদের ওপর বিশেষ নজরদারির কাজে ব্যবহার করছে কমিশন।

কলকাতা সংবাদদাতা