বিনা টিকেটে ওয়াংখেড়েতে ঢুকেছেন ২৫০ আমলা!
বলিউড সুপারস্টার থেকে শুরু করে সরকারি আমলা, সাবেক ক্রিকেটার আর খ্যাতিমান শিল্পপতির ভিড়ে বৃহস্পতিবার ঠাসা ছিল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারি। টি টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলার এই দিনে তারকাদের আলো ঝলমলে উপস্থিতির পেছনে ছিল একটি ‘অনৈতিকতার’ কালো দাগ। কারণ টিকেট কেটে খেলা দেখতে আসেননি এই রথী-মহারথীরা!
এই টিকেট না কেটে খেলা দেখতে আসা ‘ভিআইপিদের’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমলা এবং সাবেক খেলোয়াড়দের একটা বড় অংশই টিকেট ছাড়া ভিআইপি গেট দিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন স্টেডিয়ামে।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হারার পর সেই ম্যাচে আমলাদের ফ্রি টিকেট নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশটির ক্রিকেটাঙ্গনে। তবে এই বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট আমলাদের হয়ে সরকারের বচন, ৩৩ হাজার ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে ২৫০ একটি খুবই ছোট সংখ্যা। এ নিয়ে এত বাড়াবাড়ির কিছুই নেই।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিজেপি এমএলএ এবং মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আশিষ শেলারের বক্তব্য, ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামটি মূলত মুম্বাই সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি। ১৯৭৪ সালের এক চুক্তি অনুযায়ী মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে এই মাঠটি দেওয়া হয়। ৪২ বছরের পুরোনো সেই চুক্তিতে খেলা চলাকালে সরকারি কর্মকর্তা এবং মুম্বাই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত টিকেটের ‘কোটা’ রাখা ছিল। আর সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি খেলাতেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত টিকেট থাকে।
এদিকে মুম্বাই ক্রিকেট একাডেমির প্রধান কর্মকর্তা স্বাধীন ক্ষত্রিয় জানান, ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মূল ধারণক্ষমতা ৩৩ হাজার। এর মধ্যে ২৭ হাজার টিকেটই সাধারণ শ্রেণির।
ভারত- ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে ওই ৩৩ হাজার টিকেটের মধ্যে ১৪ হাজার টিকেট স্পন্সর, খেলোয়াড়, বিজ্ঞাপনদাতা এবং বোর্ডের কর্মকর্তার জন্য সংরক্ষিত ছিল। আর ভারতের লাখো ক্রিকেটপ্রেমীর জন্য ছিল মাত্র ১৯ হাজার টিকেট। সেই টিকেটের অনেকগুলোই আবার ‘রাজনৈতিক অনুরোধে’ বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফলে বৃহস্পতিবার ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে খেলা দেখেছেন প্রায় দুই লাখ ক্রীড়াপ্রেমী।

অনলাইন ডেস্ক