উত্তরাখন্ডে দাবানল নিয়ন্ত্রণে সাড়ে ছয় হাজার পুলিশ
জ্বলছে ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের পাউড়ি, তেহরি ও নৈনিতাল বনাঞ্চল। একটানা তিন মাস ধরে দাবানলে পুড়ে গেছে উত্তরাখন্ডের প্রায় তিন হাজার হেক্টর বনভূমি। বন ছাড়িয়ে দাবানল এখন ছুটে আসছে শহরাঞ্চলের দিকে। এতে এ পর্যন্ত ছয়জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার নেওয়ার আগে উত্তরাখন্ডের দাবানল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠে নেমে পড়েছে ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। সে সঙ্গে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার পুলিশকর্মীও কাজ করছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আগুনে নিহতদের মধ্যে এক শিশু ও তিন নারী রয়েছে। এরই মধ্যে দাবানলের হাত থেকে বাঁচাতে প্রায় এক হাজারের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উত্তরাখন্ডের বনভূমিতে বিধ্বংসী দাবানল মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার এরই মধ্যে এনডিআরএফের তিন কোম্পানিকে পাঠিয়েছে। সে সঙ্গে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার পুলিশকর্মীও দাবানল আয়ত্তে আনতে দিন-রাত কাজ করে চলছেন।
একদিকে গরম বাতাস, অন্যদিকে শুকনো বন-জঙ্গলে এখন ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে আগুন। দাবানল বর্তমানে বিভীষিকার আকার নিতে চলেছে। বিশেষ করে উত্তরাখন্ডের আলমোরা, পাউড়ি ও গাউচর বনাঞ্চলের অবস্থা অত্যন্ত ভয়ংকর। দাবানল আটকাতে সব রকমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।
উত্তরাখন্ডের রাজ্যপাল কে কে পল জানিয়েছেন, দাবানল ঠেকাতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তরাখন্ডের বিভিন্ন বনাঞ্চলে দাবানলের ঘটনা ঘটতে থাকে। কমপক্ষে ছোট-বড় মিলিয়ে ৯২২টির মতো দাবানলের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তা সত্ত্বেও সে সময় উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এখন পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার অবস্থা হওয়ায় হুঁশ ফিরেছে প্রশাসনের।
তবে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই দাবানল বৃষ্টি ছাড়া মোকাবিলা করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর অনেকেই। তার ওপর দাবানল নেভাতে গিয়ে পানি সংকটের জেরে পদে পদে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। দাবানল নেভানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাই শুধু ফোমের সাহায্যে প্রাথমিকভাবে যা করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত সামান্য। বৃষ্টির পানি ছাড়া ভয়াবহ এই দাবানল মোকাবিলা করা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সবার মধ্যে।

কলকাতা সংবাদদাতা