আগামী বছরের মধ্যে পুরো রাখাইন রাজ্য দখলের অঙ্গীকার আরাকান আর্মির
আগামী বছরের মধ্যে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জিত হবে, এমন ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্রোহী আরাকান আর্মির (এএ) প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল তুয়ান ম্রাত নাইং। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দলটির ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। খবর মিয়ানমার নাওয়ের।
২০২৩ সালের শেষভাগ থেকে আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের ১৪টি টাউনশিপ এবং দক্ষিণ চিন রাজ্যের পালেতওয়া টাউনশিপ দখল করে রেখেছে। বর্তমানে রাখাইন রাজ্যের মাত্র তিনটি টাউনশিপ—রাজধানী সিত্তে, কিয়াকফিউ এবং মানাউং মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আরাকান আর্মির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তুয়ান ম্রাত নাইং বলেন, ‘আমরা পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে আমাদের করণীয় কাজগুলো অব্যাহত রাখব।’ তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আরাকান আর্মি তার মিত্রদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে।
২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর রাখাইন রাজ্যে আক্রমণ শুরু করে আরাকান আর্মি। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে উত্তর শান রাজ্যে তাদের সদস্যভুক্ত জোট 'ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স' ঐতিহাসিক 'অপারেশন ১০২৭' শুরু করেছিল।
আক্রমণ শুরুর পর থেকে আরাকান আর্মি কেবল সামরিক সাফল্যই পায়নি, বরং তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে নিজস্ব প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আদালত, স্কুল এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করেছে। তবে জান্তা বাহিনীর অব্যাহত বিমান ও নৌ-হামলার কারণে রাজ্যের অনেক অংশে বেসামরিক মানুষ এখনো বাস্তুচ্যুত হওয়ার সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
আরাকান আর্মির ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের অন্য দুই সদস্য—মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) এবং তায়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছে।
এছাড়াও ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি), কমিটি রিপ্রেজেন্টিং পিদাইংসু হ্লুত্তাউ (সিআরপিএইচ) এবং চিন ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স, পিপলস লিবারেশন আর্মি ও স্টুডেন্ট আর্মড ফোর্সসহ ৪০টিরও বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী গত ১৭ বছরে আরাকান আর্মির ক্রমবর্ধমান শক্তির প্রশংসা করে অভিনন্দন জানিয়েছে।
তাদের বার্তায় বলা হয়, আরাকান আর্মি এবং রাখাইনের জনগণের এই অর্জন অটল সংকল্প, ত্যাগ ও ঐক্যের ফল, যা মিয়ানমারের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১০ এপ্রিল মিয়ানমার-চীন সীমান্তের লাইজা শহরে আরাকান আর্মি প্রতিষ্ঠিত হয়। লাইজা মূলত কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মির সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত। জানা যায়, মাত্র ২৬ জন সদস্য এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দলটির যাত্রা শুরু হয়েছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক