‘ইরানের বন্দর আক্রান্ত হলে আঞ্চলিক কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না’
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে। ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নৌ অবরোধকে ‘অবৈধ’ ও ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তেহরান। সেই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরানের কোনো বন্দর আক্রান্ত হলে এই অঞ্চলের কোনো বন্দরই আর নিরাপদ থাকবে না। খবর আল জাজিরার।
মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে তারা ইরানের সব বন্দরে নৌ অবরোধ কার্যকর করবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে মাইনমুক্ত করে সবার জন্য খুলে দেওয়াই তার লক্ষ্য। তবে এই জলপথ ব্যবহার করে ইরানকে কোনোভাবেই লাভবান হতে দেওয়া হবে না।
ইরানি সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যাতায়াতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই বিধিনিষেধ সরাসরি অপরাধ। তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরে ইরানের বন্দরগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তার প্রভাব পুরো অঞ্চলের ওপর পড়বে।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে প্রায় আট শতাংশ বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই—উভয় তেলের দামই এখন ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মন্দার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যত বিভক্ত করে ফেলেছে। ওয়াশিংটনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও ইরানের তেলের বড় আমদানিকারক দেশ চীন এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে একে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে। বেইজিংয়ের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অবাধ প্রবাহ বজায় রাখা বৈশ্বিক স্বার্থেই জরুরি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যেও এ নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র মতভেদ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রিটেন এই মার্কিন অবরোধে যোগ দেবে না এবং তারা কোনোভাবেই নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়। একইভাবে স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই পুরো পরিস্থিতিকে একটি ‘অধঃপতনের চক্র’ হিসেবে অভিহিত করে মার্কিন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। মূলত ন্যাটোর অনেক মিত্র দেশই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সংঘাতময় পথে হাঁটার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
গত সপ্তাহে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনও কাগজে-কলমে বহাল থাকলেও সোমবারের এই অবরোধ পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, তারা কেবল ইরানের জাহাজ বা ইরানের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে, কিন্তু এর ফলে হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক বাণিজ্য যে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক