নতুন আইনের উদ্যোগ, অভিসংশনের ঝুঁকিতে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিসংশনের মুখোমুখি হতে পারেন। ডেমোক্রেটিক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের আনা একটি নতুন বিল পাস হলে তিনি এমন পরিস্থিতিতে পড়বেন। প্রেসিডেন্টের ভূমিকা ও তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থ-এই দুটির মধ্যে যে সংঘাত সে ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলেই তিনি অভিসংশনের মুখোমুখি হবেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প কীভাবে নিজের স্বার্থ রক্ষা করবেন- চারিদিকে এখন এই প্রশ্নই উত্থাপিত হচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর কোম্পানিগুলো তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা নিয়ন্ত্রণ করছেন।
এই সপ্তাহে ট্রাম্পের তাঁর ব্যবসায়িক পরিকল্পনার ব্যাপারে বিশদ জানানোর কথা ছিল। কিন্তু তা আগামী জানুয়ারিতে করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। জানুয়ারিতেই ওয়ারেন ও একদল ডেমোক্রেটিক সিনেটর বিলটি উত্থাপন করবেন। এই বিল সংবিধানের ‘ইমোলিউমেন্ট ক্লজ (উপার্জন বিধি)’ নামে পরিচিত। যেখানে প্রেসিডেন্টের বিদেশি অভিনেতাদের কাছ থেকে কোনো উপহার বা সুবিধা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সংবিধানের ১ অনুচ্ছেদের ৯ অধ্যায়ের আওতায় প্রেসিডেন্ট কোনো বাদশা, যুবরাজ বা অন্য দেশের কাছ থেকে উপহার, সুবিধা, অফিস বা কোনো উপাধি গ্রহণ করতে পারবেন না।
সিনেটর ওয়ারেন বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ইমোলিউমেন্টস ক্লজের আওতায় অন্য দেশের সরকারের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রিত করপোরেশন বিদেশি রাষ্ট্রেরই।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দেশের জন্য কী কী ভালো কাজ করছেন– নিজের জন্য এবং তাঁর ব্যবসার জন্য অফিসটি ব্যবহার করছেন কি না, তা জানার অধিকার রয়েছে আমেরিকানদের।’
অভিসংশন এড়াতে ট্রাম্পের কাছে একটি পথই খোলা রয়েছে, তা হলো প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর ভূমিকা ও তাঁর আর্থিক স্বার্থের মধ্যে দ্বন্দ্ব দূর করা এবং আমেরিকানদের বিশ্বাস অর্জন করা। পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের জন্যও এই একই ধরনের বিল উত্থাপন করা হয়েছিল।
ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক ব্যবসা নেটওয়ার্কের সঙ্গে চীন, লিবিয়া ও তুরস্কসহ সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারী, বিদেশি কর্মকর্তাদের সম্পর্ক রয়েছে।

দি ইনডিপেনডেন্ট