মিনেসোটায় বিক্ষোভ : অভিবাসন এজেন্টদের বিরুদ্ধে আদালতের বিধিনিষেধ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের জন্য ‘বিদ্রোহ আইন’ প্রয়োগের এখনই প্রয়োজন নেই, এমন কথা জানানোর পর, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের কাজে বাধা না দিতে কেন্দ্রীয় এজেন্টদের নির্দেশ দিয়েছেন একজন মার্কিন বিচারক। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
মার্কিন জেলা জজ ক্যাথরিন মেনেন্দেজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) অভিবাসন এজেন্টদের তাদের আক্রমণাত্মক কৌশল কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। এই আদেশের ফলে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী ও গাড়িচালকদের আটক বা গ্রেপ্তার এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পিপার-স্প্রে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আদালতের ৮৩ পৃষ্ঠার এই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় এই শহরে বর্তমানে পরিচালিত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) অভিযানকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নির্দেশিকা মেনে চলার সময় দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেন্দ্রীয় এজেন্টদের গুলিবর্ষণে একজন নিহত ও অন্য একজন আহত হওয়ার পর এই নির্দেশ এলো।
এমন আইনি পদক্ষেপ হোয়াইট হাউস এবং মিনেসোটার নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘সিবিএস নিউজ’ জানিয়েছে, বিচার বিভাগ মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে-র বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করছে।
ওয়ালজ ও ফ্রে—দুজনই তাদের রাজ্যে অভিবাসন অভিযানের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছিলেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ফ্রে লিখেন, ‘এটি স্পষ্টতই আমাকে ভয় দেখানোর একটি প্রচেষ্টা। এই প্রশাসনের আনা বিশৃঙ্খলা ও বিপদের বিরুদ্ধে এবং মিনিয়াপলিস ও এখানকার বাসিন্দাদের স্বার্থের প্রশ্নে রুখে দাঁড়ানোয় আমাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।’
গভর্নর ওয়ালজ বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন সেই সমস্ত ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যারা প্রেসিডেন্টের নীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপলিসে আইসিই (ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) কর্মকর্তার গুলিতে নিহত ৩৭ বছর বয়সী রেনি গুড-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘রেনি গুড হত্যার ঘটনায় তাকে গুলি করা সেই কেন্দ্রীয় এজেন্টের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে না।’
বিচার বিভাগ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি এক্সে লিখেছেন, ‘মিনেসোটার সবার জন্য একটি অনুস্মারক : আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।’
এই সপ্তাহের শুরুতে অভিবাসন এজেন্টদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠলে ট্রাম্প ‘বিদ্রোহ আইন’ প্রয়োগের হুমকি দিয়েছিলেন, যা তাকে বিক্ষোভে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করার ক্ষমতা দেয়। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রয়োজন হলে আমি এটি ব্যবহার করব। তবে এই মুহূর্তে এটি ব্যবহারের কোনো কারণ দেখছি না।’
১৮০৭ সালের এই আইনটি একজন প্রেসিডেন্টকে সুনির্দিষ্ট বিশেষ পরিস্থিতিতে মার্কিন ভূখণ্ডে সৈন্য মোতায়েনের অনুমতি দেয়।
সম্প্রতি মিনিয়াপলিস জুড়ে বিক্ষোভকারীরা অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করে চালানো অভিযানের বিরোধিতা করে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মকর্তারাও সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছেন। রেনি গুডকে হত্যার পর এই বিক্ষোভ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংগঠিত নৃশংসতা
মার্কিন কেন্দ্রীয় এজেন্টরা পৃথক দুটি ঘটনায় গুলি চালিয়েছেন। এর একটিতে গত সপ্তাহে রেনি গুড নিহত হন এবং গত বুধবার ভেনেজুয়েলার এক নাগরিক আহত হন। পৃথক আরেকটি ঘটনায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি নিশ্চিত করেছে যে, ৩৪ বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক হেবার সানচেজ ডমিঙ্গুয়েজ আইসিই হেফাজতে মারা গেছেন। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন আইসিই হেফাজতে মারা গেছেন।
মিনেসোটা রাজ্যে ট্রাম্প সমর্থকরাও আইসিই বিরোধী বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হতে শুরু করেছে, যা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। ‘মিনেসোটা স্টার ট্রিবিউন’ জানিয়েছে, আইসিই বিরোধী আন্দোলনের কৌশল নিয়ে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিভাজন দেখা দিচ্ছে। অ্যাক্টিভিস্টরা উগ্র-ডানপন্থী উসকানিদাতাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকছেন, যারা বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গার মতো পরিস্থিতি তৈরিতে প্ররোচিত করতে পারে।
মিনেসোটার আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন জানিয়েছে, আইসিই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে। বুধবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় গভর্নর ওয়ালজ কেন্দ্রীয় এজেন্টদের বিরুদ্ধে ‘মিনেসোটার মানুষের ওপর সংগঠিত নৃশংসতার প্রচারণা’ চালানোর অভিযোগ তোলেন।
রেনি গুড-এর পরিবার বুধবার ঘোষণা করেছে, তারা এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে এবং অফিসার ও সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে একটি শীর্ষস্থানীয় ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছে। আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন যেন ওই গুলিবর্ষণ সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করা হয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক