ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের কড়া সমালোচনায় মার্কিন সিনেট নেতা
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার। তিনি অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যে বিভ্রান্তি ও পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সিনেটে দেওয়া বক্তব্যে শুমার বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ দিন দিন আরও বিভ্রান্তিকর ও পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠছে। খবর আনাদোলুর।
তার এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরির’ অংশ হিসেবে ইরানের ভেতরে সবচেয়ে তীব্র হামলার দিনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুমার বলেন, ট্রাম্প একদিকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, আবার অন্যদিকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বড় ধরনের সামরিক অভিযানের কথা বলছেন। এতে পরিস্থিতি আরও অস্পষ্ট হয়ে উঠছে।
মার্কিন সিনেটের এই নেতা প্রশ্ন তোলেন, যুদ্ধ কি শেষের দিকে, নাকি আমরা আরও ভয়াবহ লড়াইয়ের দ্বারপ্রান্তে? ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা কি ১২ ঘণ্টাও নিজেদের বক্তব্যে স্থির থাকতে পারেন না?
স্কুলে হামলার অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক
এদিকে ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলার ঘটনায় ১৭৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার অভিযোগ নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যের সমালোচনা করেন শুমার।
ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওই হামলায় ইরানের টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে শুমার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইরানের কাছে টমাহক মিসাইল নেই।
তিনি ওই হামলার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান এবং বলেন, বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
কংগ্রেসে জবাবদিহির দাবি
শুমার বলেন, ইরান যুদ্ধ ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এই নেতা অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।
এদিকে তিনি ও ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন সিনেটর ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কংগ্রেসে প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কংগ্রেসের শুনানিতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান শুমার।
শুমার বলেন, প্রশাসনকে কংগ্রেসের সামনে এসে শপথ নিয়ে বলতে হবে কেন আমাদের সেনারা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ করছে এবং কেন তাদের প্রাণ যাচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক