দারফুরের প্রধান শহরও দখলের দাবি আরএসএফের
সুদানের পশ্চিম দারফুরের সর্বশেষ প্রধান শহুরে কেন্দ্র এল-ফাশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছে দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। গত বছরের মে মাস থেকে শহরটি সেনাবাহিনীর দখল ছিল।
আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে আরএসএফ জানিয়েছে, ‘ভাড়াটে এবং মিলিশিয়াদের দখল থেকে এল-ফাশের শহরের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
তবে প্রতিকূল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এএফপি স্বাধীনভাবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। সেনাবাহিনী বা তাদের মিত্ররা মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
স্থানীয় সেনাবাহিনী-পন্থী যোদ্ধারা পপুলার রেসিস্ট্যান্স নামে পরিচিত।আরএসএফের বিরুদ্ধে মনোবল দুর্বল করার জন্য "মিডিয়া ডিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইন" চালানোর অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রতিরোধ কমিটি, একটি গণতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠী, জানিয়েছে যে আরএসএফের লক্ষ্যবস্তু হওয়া ষষ্ঠ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনটি ছিল "কেবলই খালি ভবন," এবং সেনাবাহিনী এখন "আরও সুরক্ষিত অবস্থানে" ঘাঁটি গেড়েছে।
গৃহযুদ্ধের সম্ভাব্য মোড়
এল-ফাশের দখলের দাবি যদি সত্য হয়, তবে এটি সুদানের প্রায় দুই বছরের গৃহযুদ্ধে একটি বড় মোড় ঘটাবে। এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এই শহরটি নিয়ন্ত্রণে এলে দারফুরের পাঁচটি রাজ্যের রাজধানীই আরএসএফের দখলে চলে আসবে। ফলে তারা প্রশাসনিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে সুদান দুইভাগে বিভক্ত হতে পারে—সেনাবাহিনী দেশের উত্তর, পূর্ব ও কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করবে, আর আরএসএফ দারফুর ও দক্ষিণের কিছু অংশে কর্তৃত্ব করবে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ক্যামেরন হাডসন এএফপিকে বলেন, এল-ফাশেরের কথিত দখল আরএসএফকে দারফুরে আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ দেবে, যা তাদের একটি বিশ্বাসযোগ্য সরকার হওয়ার দাবিকে জোরদার করবে।
মানবিক বিপর্যয় চরমে
এল-ফাশেরে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার বেসামরিক নাগরিক, যাদের অর্ধেকই খাদ্য ও সহায়তা ছাড়া আটকা পড়ে আছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়ায় হাজার হাজার অপুষ্টিতে ভোগা শিশু ‘আসন্ন মৃত্যুর ঝুঁকিতে’ রয়েছে বলে চারটি জাতিসংঘ সংস্থা সতর্ক করেছে।
এল-ফাশেরে অনারব জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালানোর সম্ভাবনায় জাতিসংঘ গত মাসে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হাডসন সতর্ক করে বলেন, এটি বেসামরিক লোকদের জন্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি। কারণ বেসামরিক নাগরিক ও সেনাবাহিনীর অনুগত যে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে আরএসএফ।
শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা
উভয় পক্ষই নৃশংসতার দায়ে অভিযুক্ত হলেও তারা বারবার আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করেছে। সুদান নিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে গত শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনে বৈঠক করেন। চার দেশ সেপ্টেম্বরের শান্তি প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে, যেখানে তিন মাসের যুদ্ধবিরতি, তারপর স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং বেসামরিক শাসনে প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক