সরকারি অচলাবস্থার পর এবার নতুন সংকটের সামনে ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার অচলাবস্থা থেকে বের হতে পারলেও এবার তার সামনে দাঁড়িয়েছে বড় এক রাজনৈতিক সংকট। আর সেটি হলো স্বাস্থ্যসেবা ইস্যু। অচলাবস্থা সমাধানের পর দেশজুড়ে স্বাস্থ্য বিমার ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লাখো আমেরিকান বিপাকে পড়েছেন। আর এ দায় এখন পুরোপুরি ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের ঘাড়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা শিগগিরই জনগণের জন্য একটা দারুণ সমাধান আনব, যেখানে মানুষই আসল উপকার পাবে। ট্রিলিয়ন ডলার জনগণের কাছে যাবে। কিন্তু তিনি কীভাবে বা কবে এই সহায়তা দেবেন, তা ব্যাখ্যা করেননি।
ডেমোক্র্যাটরা দাবি করেছিল, অচলাবস্থা শেষ করতে হলে ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ (ওবামা কেয়ার)–এর বর্ধিত ভর্তুকি চালু রাখতে হবে। কিন্তু সেটি ছাড়াই রিপাবলিকানরা বাজেট চুক্তি পাস করায় ট্রাম্পের এই ‘জয়’ এখন তার দলের জন্যই রাজনৈতিক বিপদ ডেকে এনেছে।
রিপাবলিকানদের বিভক্তি
স্বাস্থ্যসেবা ইস্যু রিপাবলিকান দলের ভেতরেও বিভাজন তৈরি করেছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক প্রতিনিধি মার্জোরি টেলর গ্রিন অভিযোগ করেছেন, তার নিজের পরিবারকেও এখন দ্বিগুণ প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দলের কোনো নেতা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেননি বা কোনো পরিকল্পনা দেননি।’
এদিকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনকে চাপ দিচ্ছেন অনেক রিপাবলিকান সদস্য, যেন তিনি ভর্তুকি পুনরায় চালুর বিষয়ে ভোট আয়োজন করেন। তবে জনসন বলেছেন, বিষয়টি ‘পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে’, যা দ্রুত সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ট্রাম্পের পুরনো প্রতিশ্রুতি, নতুন সংশয়
২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—ওবামা কেয়ার বাতিল করে ‘চমৎকার ও সাশ্রয়ী’ নতুন স্বাস্থ্যসেবা চালু করবেন। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। তার প্রথম মেয়াদে বারবার এই প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা হাজির করতে পারেননি। এবারও পরিস্থিতি একই রকম।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ট্রাম্পের অস্পষ্টতা ও বাস্তব সমাধানের অভাব ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ক্ষতি করতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪৯ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন স্বাস্থ্যসেবা ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটরা ভালো কাজ করতে পারে, যেখানে মাত্র ২৬ শতাংশ রিপাবলিকানদের প্রতি আস্থা রাখেন।
ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ: ট্রাম্পআরএক্স
অচলাবস্থার পর ট্রাম্প নতুন একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। সেটি হলো ‘ট্রাম্পআরএক্স’ নামে সরাসরি ওষুধ বিক্রির ওয়েবসাইট। তিনি জানিয়েছেন, স্থূলতা কমানোর কিছু ওষুধ মাত্র ১৪৯ ডলারে পাওয়া যাবে। এই পরিকল্পনায় কিছু বড় ওষুধ কোম্পানি শুল্ক ছাড় পাবে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। সরকার সরাসরি নাগরিকদের হাতে টাকা দিলে তা রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যবাহী নীতি—‘সীমিত সরকারি হস্তক্ষেপ’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, রিপাবলিকানরা নিজেরাই এখন ফাঁদে পড়েছে। তারা ওবামা কেয়ার ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু এখন তারই ভর্তুকি না থাকায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, তাদের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ নীতিই আমেরিকানদের আরও বেশি বিকল্প ও নিয়ন্ত্রণ দিয়েছে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এর ফলে মেডিকেইড তহবিল কমে গিয়ে গ্রামীণ হাসপাতালগুলো ঝুঁকিতে পড়বে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক