ইউক্রেনে ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত ২৬, বহু নিখোঁজ
পশ্চিম ইউক্রেনের টেরনোপিল শহরে রাশিয়ার বিমান হামলায় কমপক্ষে ২৬ জন নিহত ও আরও প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লাইমেনকো এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, বুধবার (১৯ নভেম্বর) টেরনোপিলে রাশিয়ার হামলার স্থানে এখনো ২২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার রাতে রাশিয়া ইউক্রেন জুড়ে মোট ৪৭৬টি ড্রোন ও ৪৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ও পরিবহণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তীব্র ঠান্ডা আবহাওয়ায় দেশজুড়ে জরুরি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করতে হয়েছে।
টেরনোপিলে এই আক্রমণ একটি আবাসিক ভবনের ওপরের কয়েক তলা ধ্বংস করে দিয়েছে। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা রাতভর আগুন নেভাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন। হতাশ বাসিন্দারা নিচে জড়ো হয়ে নিখোঁজ প্রিয়জনদের খবরের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
আরও পড়ুন: শান্তি পরিকল্পনার খবরের মধ্যেই ইউক্রেনে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লাইমেনকো টেলিগ্রামের মাধ্যমে জানিয়েছেন, জরুরি সেবা কর্মীরা রাতভর ধসে পড়া ভবনটিতে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যে ভবনের দুটি প্রবেশপথ সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে, সেখানে একটিও ফ্ল্যাট অক্ষত নেই। আগুন মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনটিকে গ্রাস করে ফেলে, ফলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করে।
কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, নিহতদের মধ্যে তিন শিশুও রয়েছে।
ওকসানা কোবেল নামের এক নারী তাঁর ছেলের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন যে, হামলার সময় নবম তলার একটি ফ্ল্যাটে ছিল। তিনি বলেন, আমি কাজে গিয়েছিলাম, বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছিলাম। আমি তাকে ফোন করে বললাম ‘বোহদান, আশ্রয়কেন্দ্রে যাও, পোশাক পর।’ সে উত্তর দিল ‘মা, আমি ইতোমধ্যেই উঠে এসেছি, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে’।"
এদিকে, পশ্চিম ইউক্রেনের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ড, তার দক্ষিণ-পূর্বে রেজেসো ও লুবলিন বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে এবং তার আকাশসীমা রক্ষার জন্য বিমান মোতায়েন করেছে।
এই হামলা সাতটি ইউক্রেনীয় অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যার ফলে দেশব্যাপী বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১৬ বছরের কম বয়সীদের বিদায় জানাচ্ছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম, যেদিন থেকে কার্যকর
রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, এই বিমান হামলাগুলো রাশিয়ার ভূখণ্ডে সন্ত্রাসী হামলার জবাবে চালানো হয়েছে।
রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেনীয় বাহিনী দক্ষিণ রাশিয়ার ভোরোনেজে চারটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, তারা এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক