নিউইয়র্কের ‘কুখ্যাত কারাগারে’ বন্দি মাদুরো, আগে যাদের রাখা হয়েছিল সেখানে
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অত্যন্ত বিতর্কিত ‘মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার’ কারাগারে রাখা হয়েছে। গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার পর তাঁকে এই বিশেষায়িত ফেডারেল কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে কারাগারটি অত্যন্ত নাজুক পরিবেশ, অব্যবস্থাপনা ও সহিংসতার জন্য এতটাই কুখ্যাত যে, অনেক মার্কিন বিচারক অপরাধীদের সেখানে পাঠাতেও অস্বীকৃতি জানিয়ে থাকেন। খবর আলজাজিরার।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে চালু হওয়া এই কারাগারে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন বন্দি রয়েছেন। নিকোলাস মাদুরো এখন সঙ্গীত তারকা আর কেলি ও সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত হিপ-হপ মুঘল শন ‘ডিডি’ কম্বসের প্রতিবেশী হিসেবে থাকছেন। তবে তিনি এই কারাগারে বন্দি হওয়া প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান নন। এর আগে হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজকেও কোকেন পাচারের মামলায় এখানে রাখা হয়েছিল।
বর্তমানে মাদুরোর সঙ্গে এই কারাগারে আরও অবস্থান করছেন মেক্সিকোর কুখ্যাত সিনালোয়া ড্রাগ কার্টেলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইসমায়েল ‘এল মায়ো’ জাম্বাদা গার্সিয়া ও ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের সিইও হত্যার অভিযুক্ত লুইগি ম্যানজিওন। এর আগে ক্রিপ্টো মুঘল স্যাম ব্যাঙ্কম্যান-ফ্রাইড এবং জেফরি এপস্টাইনের সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলও এই কারাগারের বাসিন্দা ছিলেন।
কারাগারটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। বন্দিদের আইনজীবীরা প্রায়ই এখানে মাত্রাতিরিক্ত সহিংসতা, খাবারের অভাব ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করেন। কিছু আইনজীবী এই কারাগারকে ‘পৃথিবীর নরক’ বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি ২০১৯ সালের তীব্র শীতের সময় টানা এক সপ্তাহ এই কারাগারে বিদ্যুৎ ও হিটার (উত্তাপক যন্ত্র) ছিল না, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস বর্তমানে এমডিসি ব্রুকলিনের বিশেষ নজরদারিতে রয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার নিউইয়র্কের আদালতে তাঁদের হাজির করার কথা রয়েছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক