নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মাদুরো বললেন ‘আমি এখনও প্রেসিডেন্ট’
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নিউইয়র্ক সিটির একটি ফেডারেল আদালতে হাজির হয়ে নিজেকে ‘নির্দোষ’, ‘ভদ্র মানুষ’ এবং ‘অপহৃত’ বলে দাবি করেছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে কারাকাস থেকে স্ত্রীসহ তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। খবর আল জাজিরার।
স্থানীয় সময় সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা বিচারক অ্যালভিন কে হেলারস্টাইনের আদালতে তোলা হয়। হাতকড়া পরা, নীল কারা-পোশাক পরিহিত দম্পতিকে স্প্যানিশ অনুবাদ শোনার জন্য হেডসেট পরিয়ে আদালতে আনা হয়।
মাদুরো আদালতে বলেন, আমাকে অপহরণ করা হয়েছে। আমি নির্দোষ, আমি একজন ভদ্র মানুষ—আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।
তার বিরুদ্ধে ‘নার্কোটেররিজম’সহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, মাদক কার্টেলের সঙ্গে মাদুরোর সংশ্লিষ্টতার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
মাদুরোর আইনজীবীরা তার গ্রেপ্তারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করবেন বলে জানিয়েছেন। তাদের যুক্তি, তিনি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ায় আন্তর্জাতিক আইনে তিনি বিচারের আওতার বাইরে থাকার অধিকার রাখেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তার স্ত্রী সিলিয়াও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিচারক আগামী ১৭ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।
এদিকে আদালতের বাইরে মাদুরোর অপহরণের প্রতিবাদে ও মার্কিন হস্তক্ষেপের পক্ষে—দুই পক্ষের ছোট ছোট বিক্ষোভকারীদের পুলিশ আলাদা করে রাখে।
জাতিসংঘের জরুরি নিরাপত্তা পরিষদ বৈঠকে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, মাদুরোকে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, কোনো রাষ্ট্রের ভূখণ্ড বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থি।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত সামুয়েল মোনকাদা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবৈধ সশস্ত্র হামলা’ চালানোর অভিযোগ করে বলেন, এতে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস, প্রাণহানি এবং প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীর ‘অপহরণ’ হয়েছে।
রাশিয়া ও চীন মাদুরোর অপহরণ তীব্র নিন্দা করে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছে। ফ্রান্স ও কলম্বিয়াসহ কয়েকটি মার্কিন মিত্র দেশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এটিকে ‘আইন প্রয়োগমূলক অভিযান’ বলে দাবি করেন।
এদিকে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে সোমবার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ পড়ানো হয়েছে। জাতীয় পরিষদের স্পিকার ও তার ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ তাকে শপথ বাক্য পড়ান। মাদুরোর সমর্থকরা সংসদে স্লোগান দিয়ে তার মুক্তির দাবি জানান।
ভেনেজুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুদের দেশ হওয়ায় এই ঘটনাকে ঘিরে দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক