যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল হস্তান্তর করবে ভেনেজুয়েলা : ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেল হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই তেল বাজারদরে বিক্রি করা হবে এবং এর থেকে প্রাপ্ত অর্থ ভেনেজুয়েলার জনগণ ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ব্যবহার করা হবে। খবর আল জাজিরার।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তেলগুলো স্টোরেজ জাহাজের মাধ্যমে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের আনলোডিং ডকে আনা হবে। তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনাটি ‘অবিলম্বে’ বাস্তবায়নের জন্য জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ ‘পুনরুদ্ধার’ এবং দেশটির দুর্বল জ্বালানি খাত পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই ঘোষণাটি আসে। ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার জীর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠনে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে প্রস্তুত।
চেভরন, এক্সন মোবিল ও কনোকোফিলিপস—যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বড় তেল কোম্পানি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার তারা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসতে পারে।
তবে বিশ্লেষকরা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত বেকার ইনস্টিটিউটের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মার্ক ফিনলি আল জাজিরাকে বলেন, ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল—কিন্তু কত সময়ের মধ্যে? সেটাই মূল প্রশ্ন। এক মাসে হলে এটি প্রায় ভেনেজুয়েলার পুরো উৎপাদন, আর এক বছরে হলে এর প্রভাব খুবই সীমিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ১৯৯০-এর দশকের দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের কাছাকাছি ফিরিয়ে আনতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং এতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। নরওয়ের জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জি জানিয়েছে, দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল উৎপাদনে ফিরতে প্রায় ১১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ দরকার।
তবে অনেক পর্যবেক্ষকই সন্দিহান যে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো সেখানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে। কারণ সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের আমলে সম্পত্তি জাতীয়করণের অভিজ্ঞতা এবং বৈশ্বিক বাজারে অতিরিক্ত তেলের সরবরাহ তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
২০০৭ সালে তেলক্ষেত্র জাতীয়করণের পর আন্তর্জাতিক সালিশিতে এক্সন মোবিল ও কনোকোফিলিপস যথাক্রমে ১.৬ বিলিয়ন ও ৮.৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেলেও ভেনেজুয়েলা সরকার সেই অর্থ পরিশোধ করেনি।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালানো একমাত্র বড় মার্কিন তেল কোম্পানি হলো চেভরন, যারা দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে।
একসময় বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি হলেও, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং বিনিয়োগের অভাবে ভেনেজুয়েলার তেল খাত বর্তমানে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। যদিও দেশটির কাছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল মজুত রয়েছে, তবুও বর্তমানে বৈশ্বিক তেল উৎপাদনের এক শতাংশেরও কম আসে ভেনেজুয়েলা থেকে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক