ইমিগ্রেশন কর্মীর গুলিতে নারী নিহতের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে একজন ইমিগ্রেশন কর্মীর গুলিতে এক মার্কিন নারী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে মিনিয়াপলিস শহরে বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা এসময় শহরটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গুলিতে মার্কিন নারী হত্যার ঘটনায় অবৈধ অভিবাসন দমনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেডারেল বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিভেদ আরও গভীর হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
রেনি নিকোল গুড নামের ৩৭ বছর বয়সী ওই নারীকে গত বুধবার সরাসরি মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। ফেডারেল এজন্টরা দাবি করছেন, রেনি তাদের গতিপথ আটকে দিয়েছিলেন। এরপর ইমিগ্রেশন এজেন্ট এগিয়ে আসতে থাকলে রেনি তার গাড়ি চালিয়ে চলে যাওয়ার সময় তাকে গুলি করা হয়।
এ প্রসঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স দাবি করেছেন, রেনি দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থা বিরোধী একটি বামপন্থি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ভান্স জোর দিয়ে বলেছেন, ওই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার জন্যই রেনিকে গুলি করেছিলেন।
হোয়াইট হাউস দাবি করেছে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘পরিকল্পিত’ আক্রমণের শিকার হচ্ছে। তবে ঘটনার বর্ণনা যেভাবে দেওয়া হয়েছে তাতে মিনেসোটার কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে ফেডারেল বাহিনীর উপস্থিতির কারণে রাস্তাঘাট আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠেছে।
বৃহস্পতিবার মিনিয়াপোলিসের বিভিন্ন স্থানে জনতা জড়ো হয়ে উচ্চকণ্ঠে আইসিই-বিরোধী স্লোগান দেয়। এসময় পিপারবল গান ও টিয়ারগ্যাসে সজ্জিত ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি পৃথক ঘটনায় ওরেগনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পোর্টল্যান্ডে ফেডারেল এজেন্টরা দুই ব্যক্তিকে গুলি করে আহত করেছে বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে। পোর্টল্যান্ড পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফেডারেল এজেন্টদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুই ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এতে আরও জানানো হয় যে, গুলিবিদ্ধ হয়েছে একজন পুরুষ ও একজন নারী।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে ওরেগনের গভর্নর টিনা কোটেক পোর্টল্যান্ডে ফেডারেল এজেন্টদের শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এই গুলির ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক