ইরানে নতুন করে ছড়াচ্ছে বিক্ষোভ, সহিংসতায় নিহত অর্ধশতাধিক
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধছে। গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষুব্ধ জনতা রাজপথে নেমে আসে তাদের প্রতিবাদী অবস্থান জানান দিতে। সরকারের দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে এখানো চলছে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট। সহিংসতায় সেখানে ইতোমধ্যে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে পশ্চিমাপন্থি শাহ শাসনের উৎখাতের পর দেশটিতে ধর্মভিত্তিক যে শাসন ব্যবস্থা কায়েম হয়েছিল তার সমাপ্তি টানার ডাক দিয়ে গত ১৩ দিন ধরে চলছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। এই প্রতিবাদের শুরুটা হয়েছিল জীনযাত্রার অস্বাভাবিক বেশি খরচের জন্য সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের অবস্থান জানানোর মধ্য দিয়ে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
এএফপির কাছে আসা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের সাদাতাবাদ জেলায় জনতা হাড়িপাতিল বাজিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যু কামনা করছে। এসময় রাস্তা থাকা গাড়িগুলো হর্ন বাজিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতি সমর্থন জানচ্ছে।
অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, একই ধরনের প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায়। ফার্সি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে দেখানো হয়েছে, তেহরানের বাইরে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশাদ, উত্তরের শহর তাব্রিজ এবং পবিত্র নগরী কৌমেও বেশ বড় আকারের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০২২-২০২৩ সালে পোশাক আইন ভাঙার কারণে নিরাপত্তাকর্মীদের হেফাজতে থাকা অবস্থায় মাহশা আমিনি নামের এক নারীর মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময়ের পর সবচেয়ে বড় আকারের একটি বিক্ষোভ হয় গত বৃহস্পতিবার। এরপর তারই ধারাবাহিকতায় এই বিক্ষোভ সমাবেশগুলো হচ্ছে যা ছড়িয়ে পড়ছে পুরো ইরানে।
এই সমাবেশগুলো হচ্ছে এমন সময়ে যখন ইরানজুড়ে চলছে ইন্টারনেট শাটডাউন। বৈশ্বিক ইন্টারনেট মনিটর নেট ব্লকস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টা ধরেই এমন অবস্থা চলছে যার লক্ষ্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলোকে আড়াল করা। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দমন করতে আন্তর্জাতিক আইনের চোখে যে অপরাধগুলো করা হচ্ছে সেগুলোকে ধামাচাপা দেওয়া।
নরওয়ে ভিত্তিক বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ এর আগে জানিয়েছিল সেখানে সহিংসতায় ৪৫ জন মারা গেছে। তবে সর্বশেষ সংগঠনটি জানিয়েছে, সংঘাতে এখন পর্যন্ত নয়জন শিশুসহ মোট ৫১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এসব প্রাণহানির ঘটনার পাশাপাশি আহত হয়েছে আরও কয়েকশ মানুষ।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক