সিরিয়ায় আইএসআইএলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড় পরিসরে’ হামলা
সিরিয়ায় আইএস (আইএসআইএল/আইএসআইএস) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আবারও ‘বড় পরিসরে’ বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে পালমিরায় এক হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক বেসামরিক দোভাষী নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) স্থানীয় সময় শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানায়, গ্রিনিচ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আইএসের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে হামলা চালানো হয়। খবর আল জাজিরার।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের বার্তা স্পষ্ট—যদি আমাদের সেনাদের ক্ষতি করা হয়, তবে দায়ীরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেন আমরা খুঁজে বের করে শাস্তি দেব।
হামলায় কেউ নিহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ঝাপসা ড্রোন ভিডিওতে গ্রামীণ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।
‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’
এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’। ১৩ ডিসেম্বর পালমিরায় এক বন্দুকধারীর হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক দোভাষী নিহত হন। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হামলাকারী ব্যক্তি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং কট্টরপন্থী মনোভাবের কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল।
এরপর ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফায় হামলা চালিয়ে মধ্য সিরিয়ার ৭০টিরও বেশি আইএসআইএল ঘাঁটি ও অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করে। ৩০ ডিসেম্বর সেন্টকম জানায়, এই অভিযানে প্রায় ২৫ জন আইএসআইএল সদস্য নিহত বা আটক হয়েছে।
সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে বাড়ছে সমন্বয়
দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ায় আইএসবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র ছিল কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন ধীরে ধীরে দামেস্কের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে।
গত বছর সিরিয়া আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেয়, যখন নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা হোয়াইট হাউস সফর করেন।
সিরিয়ান কর্মকর্তারা গত মাসে জানান, আইএসের শীর্ষ নেতা তাহা আল-জৌবিকে দামেস্কের উপকণ্ঠ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই সিরিয়ায় মার্কিন উপস্থিতি নিয়ে সংশয়ী ছিলেন। তার প্রথম মেয়াদে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেও শেষ পর্যন্ত বাহিনী পুরোপুরি সরানো হয়নি।
বর্তমানে সিরিয়ায় প্রায় ১০০০ মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ধাপে ধাপে সেনা সংখ্যা কমিয়ে শেষ পর্যন্ত সেখানে কেবল একটি ঘাঁটি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক