ইরানে সরকারপন্থি সমাবেশ, থামছে না সরকারবিরোধী বিক্ষোভ
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারের সমর্থনে পাল্টা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) এসব সরকারপন্থি কর্মসূচি পালিত হয়।
রাজধানী তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় সড়ক এঙ্গেলাব স্কয়ারে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে সরকার সমর্থনে স্লোগান দেন।
আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদক জানান, সমাবেশকারীরা জনসমাগমস্থলে সাম্প্রতিক সহিংসতার নিন্দা জানান।
বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানের দাবি জানালেও, একই সঙ্গে তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ’ প্রত্যাখ্যান করেন। তেহরান ছাড়াও পূর্ব ইরানের কেরমান, জাহেদান ও বিরজান্দসহ বিভিন্ন শহরে একই রকম সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে একই দিনে দেশের নানা প্রান্তে সরকারবিরোধী বিক্ষোভও চলতে থাকে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘সশস্ত্র দাঙ্গাকারীদের’ সমর্থন দিচ্ছে, যারা দেশজুড়ে বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে হামলা চালিয়েছে।
সোমবার ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের ভেতর দিয়ে একটি আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সময় ২৭৩টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
আরও পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্র ‘পরীক্ষা’ নিতে চাইলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান : আরাঘচি
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, নিষিদ্ধ একটি কুর্দি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত পাঁচ সদস্যের একটি ‘সন্ত্রাসী সেল’কে পশ্চিম ইরানের খোররমাবাদ শহরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া দেশের বাইরে পরিচালিত ফার্সি ভাষার বিরোধী চ্যানেলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১৫ জনকে আটক করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
গত মাসে ইরানে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের ইতিহাসে সর্বনিম্ন মূল্যপতন ঘটে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর নেমে এসেছে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
এই অস্থিরতা এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি বিক্ষোভকারীদের ‘সহায়তায় এগিয়ে আসার’ অঙ্গীকার করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকে সমর্থনের জন্য ‘একাধিক বিকল্প’ বিবেচনা করছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, রোববার (১১ জানুয়ারি) ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে মঙ্গলবার ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠক করতে পারেন।
এদিকে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় ট্রাম্প রোববার জানান, ইরানের কর্তৃপক্ষ দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
ট্রাম্প বলেন, একটি বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে বৈঠকের আগেই বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। ইরান ফোন করেছে, তারা আলোচনা করতে চায়।
এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের রক্ষকরা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘ভুলবার মতো নয়’-এমন শিক্ষা দেবে।
তেহরানে এক সমাবেশে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে আপনাদের সব সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা জালিম শাসকদের শায়েস্তা করব।
ওই সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চলমান বিক্ষোভে হতাহতের বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ দাবি করেছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৪৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বিক্ষোভকারী উভয়ই রয়েছেন। আহত হয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দেশজুড়ে ৫৮৫টি স্থানে, ৩১টি প্রদেশের ১৮৬টি শহরে সংঘটিত বিক্ষোভে অন্তত ১০ হাজার ৬৮১ জনকে আটক করা হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক