ভেনেজুয়েলার আরও একটি তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল উৎপাদন ও বিক্রির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করল ওয়াশিংটন।
লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম তদারককারী সংস্থা ইউএস সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জানায়, ক্যারিবীয় অঞ্চলে আরোপিত অবরোধের অংশ হিসেবে মোটর ভেসেল স্যাজিটা (এমভি স্যাজিটা) নামের ওই তেল ট্যাঙ্কারটি আটক করা হয়েছে। এটি ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ ও দেশটি ছাড়ার চেষ্টা করছিল।
সাউথকম এক বিবৃতিতে জানায়, ক্যারিবীয় অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলাচলকারী আরেকটি ট্যাঙ্কার জব্দ করা আমাদের দৃঢ় অবস্থানের প্রমাণ। ভেনেজুয়েলা থেকে যে তেল রপ্তানি হবে, তা অবশ্যই আইনসম্মত ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে হতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাহাজটি জব্দের সময় কোনো সংঘর্ষ হয়নি। প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা হেলিকপ্টারে করে জাহাজটির ডেকে অবতরণ করছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করা শুরু করে।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেন। যার লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা।
এই অভিযানের আগে ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার দাবি নিয়ে সরব ছিলেন। তারা যুক্তি দেন, বিংশ শতকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে তেল অনুসন্ধান করেছিল। তবে ১৯৭১ সালে ভেনেজুয়েলা তাদের তেল শিল্প জাতীয়করণ করে।
২০০৭ সালে বিদেশি তেল কোম্পানির সম্পদ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনার কারণ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভেনেজুয়েলার তেল ‘মার্কিন মালিকদের কাছ থেকে চুরি করা হয়েছে’। তবে আন্তর্জাতিক আইনি বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বলে মনে করেন।
এমন বিতর্কের মধ্যেই ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকবে এবং প্রয়োজনে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে দেশটির সরকারকে চাপ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে চলা কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও আরও জোরদার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব ট্যাঙ্কার জব্দ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার অংশ। যদিও সামরিক শক্তি ব্যবহার করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, আমরা ভেনেজুয়েলা থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল নিয়েছি। এখনো আমাদের হাতে কোটি কোটি ব্যারেল আছে। আমরা সেগুলো খোলা বাজারে বিক্রি করছি, যার ফলে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক তেল বিক্রি থেকে দেশটি প্রায় ৩০ কোটি ডলার আয় করেছে। গত সপ্তাহে দেওয়া তার প্রথম জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি ভবিষ্যতে আরও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য দেশের হাইড্রোকার্বন আইন সংস্কারের ইঙ্গিত দেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক