খামেনির দাফন নিয়ে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান স্থগিত করল ইরান
তেহরানে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন নিয়ে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল-জাজিরার।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি)।
ইরানের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানায়, দাফন নিয়ে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানটি বিলম্বের কারণ কিছু লজিস্টিকাল সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রদেশ থেকে এ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য অনুরোধ করেছে মানুষ।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, খামেনির জানাজার আয়োজন চলছে। আশা করা হচ্ছে, বিশাল জনসমাগম ঘটবে। এ ছাড়া খামেনির জন্য আয়োজিত গণ-শোক সমাবেশে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার হুমকিও রয়েছে।
১৯৮৯ সালে দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় প্রায় এক কোটি মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন।
এর আগে ইরানের ইসলামিক প্রচার পরিষদের প্রধান হোজ্জাতোসলাম মাহমুদি বলেছিলেন, খামেনির দাফন সংক্রান্ত বিদায় অনুষ্ঠানটি তেহরানের ইমাম খোমেইনী প্রার্থনাকক্ষে স্থানীয় সময় রাত ১০টায় শুরু হবে এবং তিন দিন ধরে চলবে। তবে এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই অনুষ্ঠানটি স্থগিতের খবর এলো।
৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে গত শনিবার হত্যা করা হয়। তিনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শাহ-শাসন পরবর্তী ইরানের প্রতিষ্ঠাতা খোমেনির স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন খামেনি। তিনি দেশটিতে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
ইরানে সর্বোচ্চ নেতা সরকারের সব শাখা, সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রাখেন। একইসঙ্গে তিনি দেশের আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ইরানের জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আহমদ খাতামি বলেন, প্রয়াত খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে।
আয়াতুল্লাহ আহমদ খাতামি রাষ্ট্রীয় টিভিকে বলেন, সর্বোচ্চ নেতাকে খুব কম সময়ের মধ্যেই নির্বাচন করা হবে। আমরা একটি উপসংহারের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছি। তবে দেশে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে একজন। দুটি ইরানি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মোজতবা দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণ থেকে বেঁচে গেছেন।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ আজ বুধবার হুমকি দিয়েছেন, খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত যেকোনো ইরানি নেতাকে হত্যা করা হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক