লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৮, বৈরুতেও একাধিক বিমান হামলা
লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে একই পরিবারের চারজনসহ ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময় রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলেও একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে বৈরুতের ঘোবেইরি ও হারেত হরিক এলাকায় কয়েকটি বিমান হামলা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। খবর আল জাজিরার।
এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ওই এলাকাগুলোতে বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে সতর্কবার্তা দেয়। তারা দাবি করে, সেখানে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। ইসরায়েলের দাবি, লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে হিজবুল্লাহর ড্রোন ইউনিট ব্যবহৃত একটি স্থাপনাও রয়েছে, যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে বুধবার (৪ মার্চ) ইসরায়েল লেবাননে অবস্থানরত ইরানের প্রতিনিধিদের দেশ ছাড়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয়। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই হামলার ঘটনা ঘটে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক হেইডি পেট বৈরুত থেকে জানান, ইরান মনে করছে এই হুমকি তাদের দূতাবাসের বিরুদ্ধেই দেওয়া হয়েছে। ফলে ইরানি মিশনে হামলা হলে ইসরায়েলি দূতাবাসগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ ধরনের হুমকিকে গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি বলছে, যেসব ব্যক্তি সরাসরি যুদ্ধে জড়িত নন তাদের লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে রাতভর গুলির শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আকাশে গুলি ছুড়ে অন্যদের সতর্ক করেন যে ইসরায়েলি হামলা আসন্ন।
দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক হামলা
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এনএনএ জানিয়েছে, সেখানে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন। নাবাতিয়েহ অঞ্চলে আরেক হামলায় একটি গ্রামের মেয়র ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন।
টাইর জেলার আল-শাহাবিয়া এলাকাতেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের দাহিরা শহরে অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে তাদের যোদ্ধাদের সশস্ত্র সংঘর্ষ চলছে। একই সঙ্গে উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও রকেট হামলাও চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
স্থল অভিযানে ইসরায়েল
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সীমান্ত পেরিয়ে লেবাননের ভেতরে স্থল অভিযান চালাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য সীমান্ত এলাকায় একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করা এবং হিজবুল্লাহকে পেছনে ঠেলে দেওয়া।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের আবারও সতর্ক করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা যেন লিতানি নদীর উত্তরের দিকে সরে যায়। সেনাবাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো স্থাপনা সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ইসরায়েলি বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, চলমান অভিযানের কারণে ইতোমধ্যে তিন লাখের বেশি লেবানিজ নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত লেবাননের ৩২০টিরও বেশি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
নতুন এলাকায় হামলা
পূর্ব লেবাননের জাহলে শহরের কাছে একটি সড়কে গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় দুইজন নিহত ও আরও দুজন আহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর লেবাননের ত্রিপোলির কাছে বেদ্দাউই শরণার্থী শিবিরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেখানে হামাসের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার (২ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জন নিহত, চার শতাধিক আহত এবং কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
এর আগে বুধবার (৪ মার্চ) বৈরুতের হাজমিয়েহ ও বাবদা সীমান্ত এলাকায় একটি হোটেলে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। একই দিনে সিরিয়া সীমান্তের কাছে বালবেকে চালানো আরেক হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক