গাজায় ইসরায়েলি হামলায় বাবা-মেয়ে নিহত, সংঘাত চলছেই
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় এক বাবা ও তার মেয়ে নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৭ মার্চ) ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, একই এলাকায় দিনের পরে আরেকটি হামলায় আরও একজন নিহত এবং এক কিশোরী আহত হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিত বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ এবং হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও গত বছরের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তবুও অঞ্চলটিতে সংঘাত থামেনি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের দিকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ থাকলেও গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে মানবিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংকটপূর্ণ বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংস্থা।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ৪৮ ঘণ্টায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রযাত্রার খবর পাওয়া গেছে এবং সেখানে ভারী গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান গাজা সিটির তুফাহ এলাকার পূর্বদিকে একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি গাজা উপকূলে ইসরায়েলি নৌবাহিনী ভারী মেশিনগান ও গোলাবর্ষণ করেছে।
অন্যদিকে গাজার দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত রাফাহ ক্রসিং এখনও বন্ধ রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সময় এই সীমান্তপথ বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। ফলে চিকিৎসাসহ জরুরি কারণে হাজারো ফিলিস্তিনি গাজা ছাড়তে পারছেন না।
মানবিক সহায়তা প্রবেশের জন্য কেরেম শালোম (কারেম আবু সালেম) সীমান্তপথ আংশিক খোলা রাখা হলেও সেখানে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ২০ লাখের বেশি মানুষের প্রায় সবাই যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং তারা এখন মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও অন্তত ৬৪০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১৭০০ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।
এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। হেবরনে গুলিতে এক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট।
টুবাসের দক্ষিণে রাস আল-আহমার এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আরও তিন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এছাড়া নাবলুস ও তুলকারেম এলাকার বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক