হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের আইন করছে ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মাঝেই কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও ট্যাঙ্কার থেকে টোল বা ফি আদায়ের জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে ইরানের পার্লামেন্ট। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারস ও তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আইনের খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এটি কার্যকর করা হতে পারে। খবর আলজাজিরার।
ইরানি পার্লামেন্টের সংশ্লিষ্ট কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে এই ফি আদায় করা হবে। তাদের মতে, বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ করিডোর বা জলপথে যেমন শুল্ক প্রদান করতে হয়, হরমুজ প্রণালির ক্ষেত্রেও বিষয়টি অত্যন্ত স্বাভাবিক। যেহেতু ইরান এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, তাই ব্যবহারকারী দেশগুলোর উচিত এর বিনিময় মূল্য পরিশোধ করা।
ইরানের এই পদক্ষেপের পেছনে মূলত ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে ইরান যে পাঁচটি দাবি উত্থাপন করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই আইনটিকে সেই দাবি আদায়ের একটি প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ইরান এই ফি আদায়ের মাধ্যমে একটি বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি করতে চাচ্ছে।
যদিও আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। সকল দেশের জাহাজের মুক্ত যাতায়াতের অধিকার রয়েছে। তবুও ইরান বর্তমানে ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিটি জাহাজ থেকে ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ট্রানজিট ফি আদায়ের ব্যবস্থা কার্যকর করেছে।
এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখছে। অন্যদিকে ইরান তাদের নিয়ন্ত্রিত জলসীমায় এই অনানুষ্ঠানিক টোল ব্যবস্থা কার্যকর করে কার্যত প্রণালিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক