জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেবে জি৭
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধাবস্থায় টালমাটাল বিশ্ব জ্বালানি বাজার। এই পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বিশ্বের শিল্পোন্নত সাত জাতির সংগঠন জি৭। সোমবার (৩০ মার্চ) এ বছরের সভাপতি দেশ ফ্রান্সের উদ্যোগে আয়োজিত এক জরুরি টেলিকনফারেন্স শেষে এই ঘোষণা দেন জোটের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকাররা।
উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর ওপর ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কা ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে অবরোধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। সোমবার সকালেই বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে জি৭ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি—এই সাত দেশ তেল, গ্যাস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর ‘অযৌক্তিক রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) প্রস্তাবিত বিকল্প চাহিদা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিগুলোকেও আমলে নিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য নিয়ন্ত্রণে আইইএ-র ৩২টি সদস্য দেশ চলতি মাসে তাদের কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা জানান, তেলের উচ্চমূল্য ও সরবরাহ সংকট বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, যা দীর্ঘায়িত হতে দেওয়া যাবে না। জ্বালানির দাম বাড়লে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছানোর আশঙ্কা করছে জি৭-এর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। তবে তারা মুদ্রানীতি ও তথ্যের ভিত্তিতে মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করায় সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে সরাসরি ও পরোক্ষ আলোচনা চলছে। তিনি বলেছেন, যেকোনো উপায়েই হোক হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক