৫৩ বছরে প্রথমবার চাঁদের দিকে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা
৫৩ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মানুষকে চাঁদের দিকে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দ্বিতীয় আর্টেমিস মিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক অভিযান হবে।
মিশনে তিনজন মার্কিন এবং একজন কানাডিয়ান মহাকাশচারী ওরিয়ান ক্যাপসুল এবং স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের মাধ্যমে চাঁদের চারপাশে ঘুরে আসবেন। এই ১০ দিনের পরীক্ষামূলক অভিযান মানুষকে বিশেরিগেন সীমার চেয়ে আরও গভীর মহাকাশে নিয়ে যাবে। খবর রয়টার্সের।
এই মিশন নাসার আর্টেমিস প্রোগ্রামের প্রথম মানব-নিরীক্ষণমূলক ফ্লাইট। প্রোগ্রামের লক্ষ্য হলো চাঁদে নিয়মিত মানব অভিযান শুরু করা। ২০১২ সাল থেকে প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই প্রোগ্রাম চলছে। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭-এর পর মানুষ চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করেনি; নাসার লক্ষ্য ২০২৮ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে এটি পুনরায় সম্ভব করা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ, যারা মানুষকে অন্য কোনো গ্রহাণুতে পাঠিয়েছে এবং ছয়টি অ্যাপোলো অভিযান সম্পন্ন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে প্রতিযোগিতার অংশ। বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তারা চীনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। কারণ চীন রোবোটিক চাঁদ অভিযান এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
আর্টেমিস টু মিশনের স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ বলেছেন, চাঁদ সৌরজগতের গঠনের সাক্ষ্য বহন করছে এবং মঙ্গল গ্রহে পাঠানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তিনি বলেন, এখান থেকেই আমরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করতে পারি—আমরা কি একা?
ক্রিস্টিনা আরও বলেন, প্রায় সব দেশই সৌরজগৎ আরও গভীরভাবে অনুসন্ধানের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। চাঁদ থেকে শুরু করে মঙ্গলে যাওয়া আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মিশনে ভিক্টর গ্লোভার, রিড ওয়াইজম্যান এবং প্রথম কানাডিয়ান মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন অংশ নিচ্ছেন। হ্যানসেনের অংশগ্রহণ নাসা এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির ২০২০ সালের চুক্তির অংশ।
নাসা অনেক বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছে, যেমন- বোয়িং, নর্থরপ গ্রুম্যান ও লকহিড মার্টিন। এছাড়াও স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিন তাদের নিজস্ব ল্যান্ডার তৈরি করছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাণিজ্যিক চাঁদের বাজারমূল্য আনুমানিক ২০৫০ সালের মধ্যে ১২৭ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।
এই পরীক্ষামূলক মিশনে ওরিয়ান ক্যাপসুল এবং এসএলএস রকেট ব্যবস্থা, ক্রু ইন্টারফেস, নেভিগেশন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। লঞ্চের জন্য নির্ধারিত সময় ১ এপ্রিল, তবে আবহাওয়া ও অন্যান্য কারিগরি পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি ৬ এপ্রিল পর্যন্ত যেকোনো দিন হতে পারে।
আর্টিমিস থ্রি (২০২৭) মিশনে ওরিয়ন ক্যাপসুল পৃথিবীর কক্ষপথে দুটি ল্যান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এগুলো হলো জেফ বেজোসের ব্লু মুন এবং ইলন মাস্কের স্টারশিপ। এর ফলে ক্রুদের চাঁদের পৃষ্ঠে পাঠানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক