ওষুধের ওপর ট্রাম্পের ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ
যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন হয় না এমন সব বিদেশি ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটি প্রতি বছর প্রায় ১৬০ কোটি ডলার সমমূল্যের ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে। খবর ডেইলি মেইলের।
প্রেসিডেন্টের এই নীতি অনুযায়ী, যেসব ওষুধ কোম্পানি তাদের উৎপাদন কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রে শুরু করবে, তাদের জন্য এই শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হবে। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার অজুহাত দেখিয়ে বাণিজ্য আইনের একটি বিশেষ ধারার অধীনে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এর আগে গত বছর ‘জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে ওষুধের ওপর শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আদেশটিকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দেয় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।
আদালত বলেছিল, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী শুল্ক আরোপে প্রেসিডেন্ট ‘জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে বর্তমান শুল্কটি ১৯৬২ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ২৩২’ (জাতীয় নিরাপত্তা ধারা) ব্যবহার করে আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক বাতিলের রায় এক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। বড় ওষুধ কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে শুরু করার পরিকল্পনার জন্য ১২০ দিন এবং ছোট কোম্পানিগুলো ১৮০ দিন সময় পাবে।
ইতোমধ্যেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য আলোচনার মাধ্যমে এই শুল্ক কমিয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। মূলত অস্ট্রেলিয়ার ‘ফার্মাসিউটিক্যাল বেনিফিটস স্কিমের’ (পিবিএস) মতো আন্তর্জাতিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ট্রাম্পের দাবি, এসব ব্যবস্থার কারণে আমেরিকানদের ওষুধের জন্য বিদেশের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, বিশ্বের নামিদামি সব ওষুধ এখন থেকে আমেরিকাতেই তৈরি হবে। কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক