ইরানে উদ্ধার হওয়া মার্কিন কর্মকর্তা আঘাত পেলেও শঙ্কামুক্ত, দাবি ট্রাম্পের
ইরানে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধার হওয়া মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা আঘাত পেলেও তিনি শঙ্কামুক্ত আছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, উদ্ধার হওয়া ওই কর্মকর্তাকে (কর্নেল পদমর্যাদা) উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে নজরদারি চালিয়েছে এবং পরিকল্পনা করেছে। খবর আল জাজিরার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তাকে উদ্ধারে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে সজ্জিত ডজনখানেক বিমান পাঠানো হয়েছিল। তিনি কিছুটা আহত হয়েছেন, তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই উদ্ধার অভিযানসহ সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত বা আহত না হওয়াই প্রমাণ করে যে ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ‘পূর্ণ আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠা করেছে।
মনে করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক ভূপাতিত যুদ্ধবিমান ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এমন দাবি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
এর আগে, আজ রোববার (৫ এপ্রিল) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এক ‘ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধের’ পর ওই বিমানচালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ধার করা হলেও তিনি এখনও সম্পূর্ণ নিরাপদ নন।
সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা আরও জানান, উদ্ধার অভিযানটি এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিখোঁজ বিমানচালককে ফিরে পেলেও উদ্ধারকারী দলটিকে এখন ইরানের সীমানা পার হয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে হবে। বর্তমানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাদের ‘এক্সফিল্ট্রেশন’ বা নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। পুরো এলাকা জুড়ে এখনও তীব্র উত্তেজনা ও লড়াই চলছে বলে জানা গেছে।
সামরিক সূত্র অনুযায়ী, এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর দুই ক্রু সদস্য প্যারাস্যুটে অবতরণ করেন। এরমধ্যে একজনক উদ্ধার হলেও অন্যজনকে খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্রুত তৎপরতা শুরু হয়। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় একাধিক হেলিকপ্টার ও রিফুয়েলিং বিমান।
অভিযানের সময় ইরানি বাহিনীর গুলিতে দুটি হেলিকপ্টারই আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে একটি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত উভয় হেলিকপ্টারই নিরাপদে ইরাকে ফিরে যায় বলে কর্মকর্তারা জানান।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক