চলতি বছরের শেষ নাগাদ যে দামে বিক্রি হবে স্বর্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতে প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফনের পূর্বাভাস দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এই মূল্যবান ধাতুর দাম আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। খবর রয়টার্সের।
প্রখ্যাত বাজার বিশ্লেষক ও টেস্টিলাইভের গ্লোবাল ম্যাক্রো প্রধান ইলিয়া স্পিভাক জানিয়েছেন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলার থেকে ৬ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম আউন্স প্রতি ৪ হাজার ৬৫১ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে, যা বছরের শুরুতে তুলনায় অনেকটাই বেশি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানানো ও জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। তবুও যুদ্ধের দামামা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা স্বর্ণের দামকে এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির তথ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে স্বর্ণের বাজারে আরও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মূলত যুদ্ধের ঝুঁকি ও তেলের উচ্চমূল্যের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্বর্ণের বাজারে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্বর্ণ মজুতের প্রবণতা বাড়লে বছর শেষে দামের এই নতুন রেকর্ড তৈরি হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক