অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি : ফের লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম ফের লাফিয়ে বেড়েছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর জ্বালানির দাম কিছুটা কমলেও আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আবারও চড়া হতে শুরু করেছে।
আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিউ ইয়র্ক লাইট ক্রুড তেলের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৮ ডলারে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতির খবরের প্রভাবে বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন ৯৪ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে এসেছিল। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
তেলের পাশাপাশি গ্যাসের দামও নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। বুধবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় গ্যাসের দাম ১৫ শতাংশ কমলেও বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের পরবর্তী মাসের গ্যাসের চুক্তির মূল্য ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১১৭ দশমিক ৫০ পেন্সে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ফিউচার মূল্য প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টায় ৪৬ ইউরোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা বুধবারের তুলনায় বড় ধরনের পুনরুত্থান।
আইএনজি ব্যাংকের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সংকটমুক্ত না হওয়ায় বাজারে এই অস্থিরতা বজায় রয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
শেয়ারবাজারে ধস
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার প্রভাবে বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ, ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ ও জার্মানির ড্যাক্স সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
এশিয়ার বাজারগুলোতেও চিত্র ছিল একই রকম; টোকিও’র নিক্কেই ২২৫ সূচক শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি ১ দশমিক ৬ শতাংশ পতন নিয়ে দিন শেষ করেছে। ভারতের সেনসেক্স সূচকেও ১ দশমিক ৬ শতাংশ ধস নেমেছে।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা
বিনিয়োগকারীরা মূলত উদ্বিগ্ন। তাদের ধারণা, লেবাননে তীব্র ইসরায়েলি হামলা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি এই সাময়িক শান্তি প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দিতে পারে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানান, দুই সপ্তাহের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির মূল শর্তই ছিল পুরো অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েল ও আমেরিকার সকল প্রকার সামরিক তৎপরতা বন্ধ রাখা। এর মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে গতকাল দেশটির মধ্যাঞ্চলে ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা এবং লেবাননে ক্রমাগত হামলা প্রমাণ করে, প্রতিপক্ষ পক্ষগুলো সমঝোতার বিষয়ে আন্তরিক নয়। হামলার এই ধারা অব্যাহত থাকলে ইরান আলোচনার টেবিল থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, তেহরানের সঙ্গে ‘আসল চুক্তি’ পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং গোলাবারুদসহ সকল সেনাসদস্য ইরানের চারদিকে অবস্থান করবে। ইরান যদি কোনো কারণে চুক্তি মানতে ব্যর্থ হয়—তবে ‘শুটিং শুরু’ হবে ; যা আগের চেয়ে অনেক বড়, শক্তিশালী ও বিধ্বংসী হবে।
এতসব নাটকীয়তা ও হুমকির মাঝেই ইরানি প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আগামীকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সেখানে বহুল প্রতীক্ষিত এই কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক