‘যুদ্ধবিরতির আগেই আমার স্বপ্নগুলো মরে গেছে’
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক যুদ্ধবিরতির ফলে রণাঙ্গন এখন শান্ত, থেমেছে অস্ত্রের গর্জন। কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনের দীর্ঘশ্বাস থামেনি। আরিয়া ফারাহান্দ নামের এক ইরানি যুবকের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে যুদ্ধের সেই অদৃশ্য ক্ষত, যা কোনো বোমার আঘাতের চেয়ে কম নয়। যুদ্ধ শুরুর আগে আরিয়া যে সচ্ছল ও স্বাধীন জীবনের স্বপ্ন বুনেছিলেন, আজ তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে আরিয়া তেহরানে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শুরু করেছিলেন। বাবার কাছ থেকে হাতখরচ নেওয়া বন্ধ করে নিজের উপার্জনে চলতেন, এমনকি নেইশাবুরে থাকা তাঁর দুই বোনের জন্য নিয়মিত উপহার পাঠাতেন। প্রথমবারের মতো জীবনের প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পেতে শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু সংঘাত শুরু হওয়ার পর সেই সাজানো জীবন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে তিনি তেহরানে তাঁর দাদির এক খালি অ্যাপার্টমেন্টে দিন কাটাচ্ছেন। হাতে কোনো কাজ নেই, ইন্টারনেট সংযোগও প্রায় বিচ্ছিন্ন।
আরিয়া জানান, মরিয়া হয়ে অসংখ্য জায়গায় জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) পাঠালেও মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান তাকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডেকেছিল। কিন্তু সেখানে যে বেতনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে বেঁচে থাকাই অসম্ভব। নেইশাবুর থেকে তার পরিবার বারবার ফিরে যাওয়ার তাগিদ দিচ্ছে। সেখানে কোনোমতে টিকে থাকার মতো কাজের আশ্বাস দিচ্ছেন তারা। কিন্তু তিল তিল করে গড়া ক্যারিয়ার ছেড়ে গ্রামে ফিরে যাওয়াটা তার কাছে ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার’ মতো মনে হচ্ছে।
ইরানের এই যুবক আক্ষেপ করে বলেন, এই যুদ্ধ হয়তো আমার শরীরের কোনো ক্ষতি করেনি, কিন্তু আমার স্বপ্ন আর সব অর্জন কেড়ে নিয়েছে। আমি এখন কেবল একটি ফোন কলের অপেক্ষায় প্রহর গুনছি, যা হয়তো কখনোই আসবে না।
আরিয়ার এই গল্প কেবল একজনের নয়, বরং যুদ্ধের কারণে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়া লাখ লাখ ইরানি তরুণের করুণ প্রতিচ্ছবি।
সূত্র: আলজাজিরা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক