এবার নৌমন্ত্রীকে সরিয়ে দিলেন ট্রাম্প, প্রশাসনে বড় রদবদল
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ-অবরোধ ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা নৌমন্ত্রী জন ফেলানকে বরখাস্ত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় বুধবার (২২ এপ্রিল) পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আকস্মিকভাবে তার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হয়। ফেলানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নৌবাহিনীর আন্ডার-সেক্রেটারি ও ভিয়েতনামি বংশোদ্ভূত যুদ্ধাহত অভিজ্ঞ সৈনিক হুং কাও। খবর আলজাজিরার।
পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ না জানালেও মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর দাবি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে দীর্ঘদিনের চরম বিরোধের জেরে ফেলানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের আধুনিকায়ন ও বাজেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে হেগসেথ ও উপ-প্রতিরক্ষা সচিব স্টিভ ফেইনবার্গের সঙ্গে তার গভীর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এছাড়া সামরিক অভিজ্ঞতাহীন ফেলান নৌবাহিনীর ঐতিহ্য রক্ষায় যথেষ্ট ‘আগ্রাসী’ ছিলেন না বলেও অভিযোগ ছিল ট্রাম্পের কট্টরপন্থি শিবিরের।
ভারপ্রাপ্ত নৌসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া হুং কাও একজন ‘ট্রাম্প অনুগত’ হিসেবে পরিচিত। তিনি নৌবাহিনীতে ২৫ বছরেরও বেশি সময় বিশেষ অপারেশন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। হুং কাও হেগসেথের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং পেন্টাগনের বর্তমান কঠোর সংস্কার নীতির কট্টর সমর্থক। এর আগে তিনি ভার্জিনিয়া থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
পিট হেগসেথ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পেন্টাগনে এটি ৩৪তম বড় ধরনের রদবদল। এর আগে তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জ ও জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল সি.কিউ. ব্রাউনকেও সরিয়ে দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের এই সংকটকালীন সময়ে সামরিক বাহিনীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালাচ্ছে।
যদিও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর অধিকাংশ কার্যক্রম ‘সেন্টকম’ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের অধীনে পরিচালিত হয়। তবুও নৌমন্ত্রীর এই পরিবর্তনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু ইরানে নৌ-অবরোধের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, সেখানে হুং কাওয়ের মতো অভিজ্ঞ সামরিক ব্যক্তিকে নেতৃত্বে আনা ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ।
এর আগে গত সোমবার (২০ এপ্রিল) ব্যক্তিগত অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করেন মার্কিন শ্রমমন্ত্রী লরি শ্যাভেজ-ডেরেমার। এপ্রিলের শুরুর দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে সরিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত ৫ মার্চ বরখাস্ত করা হয় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়কমন্ত্রী ক্রিস্টি নোমকে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক