আটকে পড়া ‘টিম্মি’কে ছেড়ে দেওয়া হলো তার নিজের ঠিকানায়
জার্মানির উপকূলে আটকা পড়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া একটি তিমিকে অন্যরকম এক উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে আজ শনিবার (২ মে) উত্তর সাগরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যতিক্রমিভাবে তৈরি একটি বার্জে (পণ্যবাহী বড় নৌকা) করে পরিবহনের পর সেটিকে ডেনমার্কের অদূরে সাগরে ছেড়ে দেওয়া হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
সাগরের উপড়িভাগে উঠে আসা হাম্পব্যাক প্রজাতির এই তিমিটি জার্মানিতে ‘টিম্মি’ নামে পরিচিতি পায়। সেখানে তিমিটির এই কঠিন পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয় এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক উন্মাদনার সৃষ্টি করে। উদ্ধার অভিযানে অর্থায়নকারী অন্যতম ধনাঢ্য উদ্যোক্তা কারিন ওয়াল্টার-মোমার্ট জানান, তিমিটি বার্জ থেকে নেমে ব্লোহোল (শ্বাসছিদ্র) দিয়ে বাতাস ছাড়ে এবং সাঁতরে চলে যায়।
তিনি আরও জানান, তিমিটি এখন নিজের শক্তিতে এবং অন্তত এখনকার জন্য সঠিক দিকেই সাঁতার কাটছে।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভাগ্যবদল করা এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘ উত্তাল সমুদ্রে পরিবহনের কারণে তিমির শরীরে কিছু ছোটখাটো আঘাত লেগেছে—তবে সেগুলো সামান্য। এটি এখন নরওয়েজীয় উপকূল হয়ে আর্কটিকের (সুমেরু) দিকে সাঁতরে যাবে।"
তিমিটিকে প্রথম ২৩ মার্চ জার্মানির বাল্টিক সাগর উপকূলীয় শহর ল্যুবেকের কাছে একটি বালুচরে আটকে থাকতে দেখা যায়। এরপর সে নিজে নিজে মুক্ত হলেও আবারও বেশ কয়েকবার আটকে পড়েছিল।
উদ্ধারের বিভিন্ন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ হাল ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ঠিক সেই মুহূর্তে ওয়াল্টার-মোমার্ট এবং অন্য এক ধনাঢ্য উদ্যোক্তা এগিয়ে আসেন। তারা এমন একটি পরিকল্পনার কথা ভাবেন যা অনেকের কাছেই অসম্ভব মনে হয়েছিল, আর তা হলো- তিমিটিকে একটি বিশেষ বার্জের পানিভর্তি খোলের মধ্যে নিয়ে সেটির প্রাকৃতিক আবাসে পৌঁছে দেওয়া।
কিছু বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালিত এই উদ্ধার পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেছিলেন, এটি প্রাণীটিকে আরও বেশি কষ্ট দেবে। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পরিকল্পনাটি সফল হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটে বাল্টিক উপকূলের উইসমার বে থেকে তিমিটি বার্জ ত্যাগ করে।
সপ্তাহব্যাপী চলা এক উপাখ্যান
তিমিটিকে বার্জে তোলার জন্য উদ্ধারকারীরা সেটিকে বেল্ট দিয়ে আটকে বালুর মধ্যে বিশেষভাবে খনন করা একটি নালা দিয়ে টেনে জাহাজের কাছে নিয়ে আসেন। এরপর তিমিটি যখন গতি বাড়িয়ে বার্জের ভেতর প্রবেশ করে, তখন উদ্ধারকারীরা সেটির পাশে পাশে সাঁতার কাটেন—যা দেখে তীরে অপেক্ষারত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে।
প্রাথমিকভাবে ইনফ্ল্যাটেবল কুশন এবং পন্টুন দিয়ে তিমিটিকে বাঁচানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এই বার্জের পরিকল্পনাটি করা হয়। পশুচিকিৎসকরা তিমিটিকে পরিবহনের জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করার পর কর্তৃপক্ষ এই অভিযানের সবুজ সংকেত দেয়।
এই ঘটনাটি টিভি চ্যানেল, অনলাইন পোর্টাল এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের কাছে বিরতিহীন খবরের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তবে তিমিটি কীভাবে পথ হারিয়ে এখানে এসেছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনেক বিতর্ক।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক