কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের বদলে টিটেনাস, যুবকের মৃত্যুতে তোলপাড়
কুকুরে কামড়ানোর পর রেবিস বা জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের বদলে ভুল করে টিটেনাস ইনজেকশন দেওয়ায় এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভারতের গোয়ালিয়রে রাজু কুশওয়াহা (৩৬) নামে এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ভয়াবহ চিকিৎসা বিভ্রাটের ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভির।
জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল কুকুরে কামড়ানোর পর রাজু গোয়ালিয়রের জয়ারোগ্য হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তাকে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক না দিয়ে টিটেনাস ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর প্রায় ২০ দিন পর রাজুর শরীরে জলাতঙ্কের লক্ষণ, বিশেষ করে পানভীতি দেখা দেয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি মারা যান।
জলাতঙ্ক কেন এত বিপজ্জনক?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জলাতঙ্ক একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একবার এই রোগের উপসর্গ দেখা দিলে মৃত্যু প্রায় ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
ভ্যাকসিন দেওয়ার সঠিক নিয়ম
জলাতঙ্ক রোধে কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে ‘পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস’ নিতে হয়। সাধারণত পাঁচটি ডোজের একটি শিডিউল (০, ৩, ৭, ১৪ এবং ২৮তম দিনে) অনুসরণ করা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে চারবমড় টি ডোজও দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি ক্ষত গুরুতর হলে তাৎক্ষণিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে ‘রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন’ ইনজেকশন দেওয়া জরুরি।
টিটেনাস কেন জলাতঙ্ক রোধে কার্যকর নয়?
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. জে কির্তানা জানান, টিটেনাস এবং জলাতঙ্ক সম্পূর্ণ আলাদা দুটি রোগ। টিটেনাস হয় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে, আর জলাতঙ্ক হয় প্রাণঘাতী আরএনএ ভাইরাসের মাধ্যমে। টিটেনাস ইনজেকশন কেবল টিটেনাস ব্যাকটেরিয়ার টক্সিনের বিরুদ্ধে কাজ করে, জলাতঙ্ক ভাইরাসের বিরুদ্ধে এটি কোনো সুরক্ষা দেয় না।
চিকিৎসকদের মতে, কুকুরে কামড়ালে টিটেনাস ইনজেকশন দেওয়া যেতে পারে, তবে সেটি কেবল টিটেনাস ঠেকানোর জন্য; তা কোনোভাবেই জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের বিকল্প নয়। এমন বিভ্রান্তি বা ভুল চিকিৎসা সরাসরি মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক