বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। আজ শুক্রবার (১৫ মে) বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। মূলত জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং এর ফলে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড ও ডলার শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের বাজারে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। খবর রয়টার্সের।
আজ স্পট গোল্ডের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫৭ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ৬ মে-র পর সর্বনিম্ন। একদিনের ব্যবধানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ১৫০ ডলার। গতকাল বৃহস্পতিবারও আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ৪ হাজার ৭০৭ দশমিক ০৮ ডলারে স্থির ছিল। সেই হিসেবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিনিয়োগকারীরা বড় অংকের লোকসানের মুখে পড়েছেন। এই নিয়ে টানা চতুর্থ সেশনের মতো স্বর্ণের দাম কমল এবং চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত এই ধাতুটির মূল্য ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
কেন এই পতন
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম কমার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে-
তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মুদ্রাস্ফীতি : ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে। তেলের এই দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বেড়েছে, যা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার আরও বাড়ানোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন : অন্তর্বাসে কচ্ছপ লুকিয়ে বিমানবন্দরে ধরা পড়লেন নারী
আরও পড়ুন : ফ্রান্সের রাস্তায় ‘মাতাল’ হরিণ, সতর্কতা জারি পুলিশের
ট্রেজারি ইল্ড ও শক্তিশালী ডলার : মার্কিন ১০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি ইল্ড গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ডলারের মান চলতি সপ্তাহে ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
সুদের হার কমানোর অনিশ্চয়তা : জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে চলতি বছরে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। উল্টো ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার আরও বাড়ার ৩৯ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছে বাজার।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম এখন পর্যন্ত ১৩ শতাংশের বেশি কমেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফর শেষে বেশ কিছু বাণিজ্যিক চুক্তির ঘোষণা দিলেও তা বিনিয়োগকারীদের খুব একটা আশ্বস্ত করতে পারেনি। অন্যদিকে বেইজিং তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন তেলের বাজার ও সুদের হারের অনিশ্চয়তা থাকবে, ততদিন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের দাম চাপের মুখেই থাকবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক