ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রুশ তেল ডিপো ও ট্যাংকারে আগুন
রাশিয়ার তেল ডিপো, জ্বালানি সংরক্ষণাগার, তেল পাম্পিং স্টেশন এবং আজভ সাগরে থাকা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। ইউক্রেন বলছে, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এই হামলা দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করার অংশ।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার টভের ও স্তাভরোপোল অঞ্চলের তেল ডিপোতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর আল জাজিরার।
এদিকে হামলার কারণে আজভ সাগরে থাকা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারেও আগুন লাগে। রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানান, হামলার পর একটি ট্যাংকারে আগুন জ্বলছিল এবং উভয় জাহাজের নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, হামলায় ফ্রন্টলাইন থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরের একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার দূরের উফা শহরের একটি তেল পাম্পিং স্টেশন এবং রোস্তভ অঞ্চলের একটি তেল লোডিং টার্মিনালেও আঘাত হানা হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ইউক্রেন ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ কৌশলের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালাচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, আমরা বহুবার রাশিয়াকে এই যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছি। প্রতিটি বিলম্বের মূল্য যেন রাশিয়াকেই দিতে হয়—এটাই আমাদের লক্ষ্য।
ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার ফলে রাশিয়ার জ্বালানি খাত চাপে পড়েছে। বিভিন্ন তেল ডিপো ও শোধনাগারে হামলার কারণে দেশটিতে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া কিছু জ্বালানি পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ৯০ শতাংশের বেশি অঞ্চলে পেট্রোল ও ডিজেলের রেশনিং চালু হয়েছে অথবা জ্বালানি সংকটের খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, বুধবার (৮ জুলাই) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল পর্যন্ত তারা ৭৩টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ৯৪টি দূরপাল্লার ড্রোন এবং দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে ৭২টি ড্রোন প্রতিহত বা জ্যাম করা হলেও ১৯টি ড্রোন এবং দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ১৩টি স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
এ হামলার একদিন আগে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৈঠকে ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, যা ইউক্রেনের প্রতি তার অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউক্রেনের রাশিয়ার ভেতরে হামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এটি অবশ্যই উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে, তবে এমন চাপই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের অবসানের পথ তৈরি করতে পারে।
তবে ক্রেমলিন এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, সামরিক চাপ বাড়িয়ে রাশিয়াকে ছাড় দিতে বাধ্য করা যাবে—হোয়াইট হাউসের এমন ধারণা ভুল।
পেসকভ সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের উত্তেজনা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। প্রয়োজনে রাশিয়া আরও বড় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে পূর্ব ইউক্রেনের আরও এলাকা দখলের চেষ্টা করবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক