যুক্তরাজ্য থেকে বোমারু বিমান সরানোর কারণ জানালেন ট্রাম্প
যুক্তরাজ্যের ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ড’ বিমানঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকির মুখে সেখান থেকে নিজেদের দূরপাল্লার বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল, যা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৫ অক্টোবর) নেব্রাস্কা সফরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বিবিসির।
ট্রাম্প জানান, একটি সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানার পর বি-১ বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পেন্টাগন। সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, হ্যাঁ, আমরা বলতে পারি বিমানগুলো দুর্ঘটনাবশত সরিয়ে নেওয়া হয়নি। সেখানে কিছু হুমকি ছিল। শত্রুদের প্ররোচিত করার চেয়ে তাদের পাকড়াও করা এবং পরাজিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা সেগুলো অন্য সুবিধাজনক স্থানে সরিয়ে নিয়েছি।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি ‘সন্দেহজনক যানবাহন’ ঘিরে কাউন্টার-টেররিজম পুলিশের অভিযানের পর এই হুমকির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনার জেরে প্রথমে পাঁচজন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য-ইরান দ্বৈত নাগরিকত্বের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও তেহরান কোনো ধরনের জড়িত থাকার অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
মার্কিন গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে প্রকাশ, হামলাটি বিমান ধ্বংস এবং মার্কিন সেনাদের প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হতে পারে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের একটি সূত্র ইউক্রেনের ‘অপারেশন স্পাইডারওয়েবের’ মতো দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন হামলার আশঙ্কার কথা ইঙ্গিত করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলায় বিদেশি কোনো অক্ষ বা শক্তির যুক্ত থাকার ইঙ্গিত দিলেও তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ডে হামলার জন্য ব্যবহার করা যেকোনো ঘাঁটিকে নিজেদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু বলে গণ্য করবে তারা।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার ফলে ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত আকাশপথে হামলা চালানোর মার্কিন সক্ষমতা কিছুটা কমে আসবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক