ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে সমঝোতা, নাকি নতুন নির্বাচন
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা শেষ হওয়ার পথে থাকলেও দেশটির রাজনৈতিক দৃশ্যপটে চরম অনিশ্চয়তা ও তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট কিংবা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন পরিবর্তনপন্থী জোট— কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো সমঝোতা হবে নাকি ইসরায়েলকে ফের আরেকটি নতুন নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে, তা নিয়ে তীব্র জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেসেটের (পার্লামেন্ট) ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য জাদুকরী সংখ্যা বা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ ৬১টি আসন নিশ্চিত করা দুই প্রধান শিবিরের কারোর পক্ষেই সম্ভব হয়নি। খবর রয়টার্সের।
চলমান ভোট গণনায় দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী, অতি-ডানপন্থী ও আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর জোট ৫৩ থেকে ৫৪টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির পেয়েছে ৪৮ থেকে ৪৯টি আসন। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় সমীকরণ তৈরি করেছে আরব-ইসরায়েলি প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো (যৌথভাবে যা প্রায় ১৯টি আসন নিশ্চিত করেছে)। ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকাংশই ঐতিহাসিকভাবে আরব দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোটে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসায় আইজেনকোটের জন্য ৬১ আসনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের এই ঝুলন্ত ফলাফলের পর ইসরায়েলের সামনে মূলত কয়েকটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার বা ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট গঠিত হতে পারে, যেখানে নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোটের শিবিরের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদী কোয়ালিশন বা ঐকমত্যের পথ খোঁজা হতে পারে। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং একে অপরের প্রতি তীব্র অনাস্থার কারণে এই সমঝোতা বেশ জটিল।
দ্বিতীয়ত, যদি দলগুলো শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় এবং প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের কোরাম গঠন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ইসরায়েলকে পুনরায় আরেকটি নতুন জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে হতে পারে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে অচলাবস্থা নিরসনে বিভিন্ন বিকল্প অংশীদারত্বের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে। বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর সদস্য, কূটনীতিক ও কারাবন্দিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রায় সাড়ে চার লাখ থেকে পৌনে পাঁচ লাখ ‘ডাবল-এনভেলপ’ বা পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা বাকি থাকায় শেষ পর্যন্ত আসনের বিন্যাসে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এই ব্যালটগুলো সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ বা ব্লকের মৌলিক অবস্থান বদলাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন সরকার গঠিত না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন বা কেয়ারটেকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা বহাল রাখছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে স্থায়ী কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে এবং দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত দেশবাসীকে আবারও নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক