ইয়েমেনে নতুন সংঘাতে বাস্তুচ্যুত ৩ লাখ, ঝুঁকিতে ৬ হাজার অন্তঃসত্ত্বা
ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় অন্তত ২ লাখ ৯০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে ৬ হাজার ১০০ জন অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০০ জনের আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা। খবর আল জাজিরার।
গত আগস্টে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারপন্থী বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াই নতুন করে শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে তাইজ প্রদেশ ও উপকূলীয় এলাকায় সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে আশ্রয় নেওয়া ৬৫ হাজার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীও চরম সংকটে রয়েছেন। সংঘাতের কারণে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ছে, ব্যাহত হচ্ছে প্রয়োজনীয় সেবা। জাতিসংঘের দলগুলো বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে চিকিৎসক ও ধাত্রী পাঠিয়েছে। এছাড়া প্রায় ২ লাখ ৪৯ হাজার মানুষকে খাদ্য, স্বাস্থ্যসামগ্রী ও জরুরি নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরবের সীমান্ত এলাকাতেও। শনিবার (৩১ অক্টােবর) রিয়াদ অঞ্চলের আকাশে একটি সন্দেহভাজন ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর আগের দিন মক্কা, মদিনা ও রিয়াদের কাছে ড্রোন এবং সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানায় রিয়াদ। তবে সৌদি ভূখণ্ডে ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার শুক্রবার জানিয়েছে, হুথিরা অন্তর্বর্তী রাজধানী আদেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এসব স্থাপনা বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
সরকারপন্থী বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ৩৩৬ জন হুথি যোদ্ধা ও কমান্ডারকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১২টি যানবাহন, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাবে, আগস্ট থেকে ইয়েমেনে অন্তত ২৭০ জন বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৮ জন নিহত, যাদের অর্ধেকই শিশু। অন্যদিকে, ইয়েমেন নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের দাবি, সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে তাইজ প্রদেশে হুথিদের হামলায় অন্তত ১৮৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
সংঘাতের কারণে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের কাছে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও পানি পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাইজ শহরের চারপাশে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় সেখানে মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানী সানায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারপন্থী বাহিনীর পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়। কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির পর সাম্প্রতিক সময়ে আবারও লড়াই শুরু হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক