ভারতীয় বিমানে খাবার হবে নিরামিষ
ভারতের সরকারি বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইটের নির্দিষ্ট ক্লাসের সব খাবারই হবে নিরামিষ। সম্প্রতি কেবিন ক্রুদের কাছে পাঠানো এক লিখিত নির্দেশে এক থেকে দেড় ঘণ্টা স্থায়ী সব ফ্লাইটেই এই খাবার বিতরণের কথা বলা হয়েছে।
গত বুধবার এয়ার ইন্ডিয়ার মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন ডি এক্স পেসের এক লিখিত নির্দেশে ক্রুদের বলা হয়, ৬১ থেকে ৯০ মিনিট স্থায়ী ফ্লাইটের ‘ইকোনমি ক্লাসে’র যাত্রীদের শুধুমাত্র নিরামিষ খাবারই দেওয়া হবে। ওই নির্দেশে আরো বলা হয়, দুপুর বা রাতের খাবার সময় কোনো চা বা কফি দেওয়া হবে না।
এয়ার ইন্ডিয়ার এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এক থেকে দেড় ঘণ্টার ফ্লাইটে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটই ব্যয় হয় খাবার বিতরণে। বিমানের উড্ডয়ন ও অবতরণের মধ্যে কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। ওই সময় সব কিছুই বাঁধা থাকে। আর পরবর্তীতে অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে সবার মধ্যে পছন্দনীয় খাবার সরবরাহও কষ্টকর। তাই স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইটে সবই খাবারই নিরামিষ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই খাবার নিয়ে অতটা বাছবিচার হয় না।
কম সময়ের মধ্যে খাবার বিতরণের লক্ষ্যে সবকিছু নিরামিষ এয়ার ইন্ডিয়ার এমন দাবির বিরোধিতা করছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিপুল সাক্সেনা নামক এয়ার ইন্ডিয়ার এক নিয়মিত যাত্রী বলেন, এরই মধ্যে বিমান সংস্থাটির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। একবার শুধুমাত্র বিস্কুট আর পানি খেয়েও তাঁকে কাটাতে হয় পুরোটা পথ। এমনকি চা-কফিও ছিল না। খাবারে এসব অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এখনো আগের অবস্থানেই আছে এয়ার ইন্ডিয়া। তিনি দাবি করেন, আমিষ ও নিরামিষ খাবার বিতরণে প্রায় একই সময় লাগে। আর শুধুমাত্র বিমানের নির্দিষ্ট ক্লাসেই কেন ভিন্নতা? এয়ার ইন্ডিয়ার যুক্তি কোনোভাবেই ধোপে টেকে না। এই প্রতিযোগিতার যুগে বিমান সংস্থাটির এমন সিদ্ধান্ত তাদের শুধু পেছনেই ঠেলে দেবে।
এয়ার ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গেছে, বিমান সংস্থাটি পাঁচ সময়ে খাবা বিতরণ করে। সকাল সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৯টায় বিতরণ করা হয় সকালের নাশতা। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা ও বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত হালকা নাশতা ও চা-কফি। দুপুরে লাঞ্চের সময় দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা। আর রাতের খাবার দেওয়া হয় রাত ১১টা ও এর পর থেকে। তবে ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে থাকা সব ফ্লাইটে নির্দিষ্ট খাবার বিতরণ করা হয়।

অনলাইন ডেস্ক