আফগানিস্তান ইস্যুতে ট্রাম্পের ‘অপমানজনক’ মন্তব্য, স্টারমারের নিন্দা
আফগানিস্তান যুদ্ধে ইউরোপীয় সেনাদের ভূমিকা নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় স্টারমার বলেন, ফক্স নিউজকে দেওয়া ট্রাম্পের মন্তব্য—যেখানে তিনি বলেছিলেন ন্যাটো মিত্ররা আফগানিস্তানে ‘সামনের সারিতে ছিল না’—তা ছিল ‘অপমানজনক এবং সত্যিই নিন্দনীয়’।
স্টারমার বলেন, আমি যদি এমন ভুলভাবে কথা বলতাম বা এমন শব্দ ব্যবহার করতাম তাহলে অবশ্যই ক্ষমা চাইতাম।
স্টারমার ২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে অংশ নিয়ে নিহত ৪৫৭ জন ব্রিটিশ সেনা সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এদিকে শুক্রবারই হোয়াইট হাউস ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে। এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একেবারেই ঠিক বলেছেন—ন্যাটোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় এককভাবে বেশি অবদান রেখেছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময় আসলো, যখন তিনি ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন, যদিও পরে সেই হুমকি প্রত্যাহার করেন।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ট্রাম্প বলেন, আমাদের কখনোই ন্যাটোর প্রয়োজন পড়েনি, আমরা তাদের কাছে কখনো সত্যিকারের কিছু চাইওনি। তিনি আরও সন্দেহ প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ন্যাটো আদৌ পাশে দাঁড়াবে কি না।
আফগানিস্তান যুদ্ধে ইউরোপের ত্যাগ
আফগানিস্তানে এক লাখ ৫০ হাজারের বেশি ব্রিটিশ সেনা দায়িত্ব পালন করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই যুদ্ধে কানাডার ১৫০ জনের বেশি, ফ্রান্সের ৯০ জন এবং জার্মানি, ইতালি ও অন্যান্য দেশের বহু সেনা নিহত হন। ডেনমার্ক হারায় ৪৪ জন সেনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণহানি ছিল দুই হাজার ৪০০ জনের বেশি।
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের কস্টস অব ওয়ার প্রকল্পের ২০২১ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, ২০০১ সালের আগ্রাসনের ফলে অন্তত ৪৬ হাজার ৩১৯ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এতে পরোক্ষভাবে রোগ, ক্ষুধা ও অবকাঠামো ধ্বংসজনিত মৃত্যুর সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত নয়।
ইউরোপজুড়ে ক্ষোভ
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইউরোপজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল মন্তব্যগুলোকে ‘মিথ্যা ও অসম্মানজনক’ বলে আখ্যা দেন। পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তার দেশ ‘বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত মিত্র’ হিসেবেই থাকবে।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স হ্যারিও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাদের ত্যাগের কথা সত্য ও সম্মানের সঙ্গে বলা উচিত।
প্রিন্স হ্যারি আরও বলেন, হাজার হাজার মানুষের জীবন চিরতরে বদলে গেছে। মা-বাবারা সন্তান হারিয়েছেন, শিশুরা বাবা বা মা হারিয়েছে। পরিবারগুলো আজও সেই মূল্য বহন করছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক